পড়া ও লেখালেখির অভ্যাস কমাবে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ এএম

স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা বা ‘ডিমেনশিয়া’ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, প্রতিদিনের ছোট কিছু অভ্যাস এই মরণব্যাধি থেকে আমাদের দূরে রাখতে পারে। নিয়মিত বই পড়া, ডায়েরি লেখা কিংবা নতুন কোনো ভাষা শেখার অভ্যাস ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

আমেরিকার শিকাগোর রাশ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ১৯৩৯ জন মানুষের ওপর এই গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণার ফলাফলটি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘নিউরোলজি’-তে।

গবেষক ড. আন্দ্রেয়া জামিত জানান, যারা সারাজীবন বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের মস্তিস্ক অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। যারা নিয়মিত পড়াশোনা করেন বা লেখালেখি করেন, তাদের অ্যালঝাইমার্স (স্মৃতিভ্রমের সবচেয়ে বড় ধরন) হওয়ার ঝুঁকি ৩৮ শতাংশ কমে যায়। শুধু তাই নয়, এই অভ্যাসগুলো রোগটিকে প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলা থেকেই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন, বাড়িতে নিয়মিত খবরের কাগজ বা মানচিত্র দেখেন এবং অন্তত একটি বিদেশি ভাষা শেখার চেষ্টা করেন, তাদের মস্তিস্ক দীর্ঘ সময় সচল থাকে। আবার মধ্যবয়সে যারা নিয়মিত লাইব্রেরি বা জাদুঘরে যান এবং বৃদ্ধ বয়সেও লেখালেখি বা বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা (যেমন- দাবা বা পাজল) চালিয়ে যান, তারা ডিমেনশিয়া থেকে অনেকটা নিরাপদ থাকেন।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই মনে করেন বয়স বাড়লে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, সচেতন থাকলে এবং মস্তিস্ককে কাজে লাগালে বার্ধক্যেও স্মৃতিশক্তি অটুট রাখা সম্ভব।

গবেষণার প্রাপ্ত পরিসংখ্যান একনজরে:

  • ঝুঁকি হ্রাস: নিয়মিত মস্তিস্কের চর্চায় অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি কমে ৩৮ শতাংশ।
  • রোগ বিলম্বিত হওয়া: সচেতন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই রোগ হওয়ার গড় বয়স ৯৪ বছর, যেখানে অসচেতনদের ক্ষেত্রে তা ৮৮ বছর।
  • মানসিক সক্ষমতা: যারা সারাজীবন পড়ালেখার মধ্যে ছিলেন, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাদের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

অ্যালঝাইমার্স রিসার্চ ইউকে-র বিশেষজ্ঞ ড. আইসোল্ড র‍্যাডফোর্ড বলেন, এই নতুন গবেষণা আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। এটি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, ডিমেনশিয়া বার্ধক্যের কোনো অনিবার্য অংশ নয়। নিজেকে মানসিকভাবে সক্রিয় রেখে আমরা নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত