পররাষ্ট্র সম্পর্কের নবদিগন্ত

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬ এএম

পিপল টু পিপল সম্পর্কের দুয়ার উন্মোচনের আকাক্সক্ষার কথা বলেছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারত, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎকারের সময় তিনি প্রত্যেককে এ-কথাই বলেছেন। তারেক রহমানের এই জনগণমুখী যোগাযোগ ভিত্তির মৌলিকত্ব সরকারগুলোর পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্কের সৌহার্দ্য বিনির্মাণকে বুঝতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের আশা-আকাক্সক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রয়াস হিসেবে দেখা হবে তারেক রহমানের এই নীতি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন পররাষ্ট্র চেতনার ভিত্তি স্থাপন করতে যাচ্ছে। এতে করে যেসব বিরোধ ও অনৈক্য বিরাজমান দেশগুলোর মধ্যে আছে, তা অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা যায়। ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এই নতুন নীতি বিদ্যমান অনিশ্চয়তাকে দূরে ঠেলে দিয়ে নতুন সম্পর্কের দিগন্ত উন্মোচন করবে। আর এর ভেতর দিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যে যে অবিশ্বাস ও দ্বিপক্ষীয় টানাপড়েন আছে, তা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এই নতুন প্রণোদনার দরজায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চিঠিতে তার ঈঙ্গিত রয়েছে। নরেন্দ্র মোদি তার চিঠিতে বলেছেন ‘দুই দেশ যোগাযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতার উন্নয়ন, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে আগ্রহী।’

তার এই আগ্রহ যদি বিশ্বযোগ্যতার উচ্চতায় আসে, তাহলে শক্তিশালী ওই দেশটির সঙ্গে আমাদের নিরাপদ বাংলাদেশের ইচ্ছা ইতিবাচক হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ কোনো রকম বিরোধকে প্রশ্রয় দেয় না, দেবে না যদি জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তবে নরেন্দ্র মোদির দেওয়া আশাবাদ একটি নতুন ভারতীয় দৃষ্টির প্রকাশ বলে প্রতীয়মান হবে। আমরা আশা করতে চাই, ভারত তার দেওয়া ওয়াদা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কার্যক্রমে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে এবং একটি নৈতিক বল অর্জনের পরিসর নির্মাণ করবে। সে আশাই দেশগুলো কামনা করে। আরেক প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে যেসব বিরোধ ও মনোমালিন্য দেশ দুটিকে অস্থির করে রাখে, তা কমিয়ে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকে আবাহন করা জরুরি কর্তব্য। আমরা দক্ষিণ আমেরিকার উদাহরণ টেনে বলতে পারি, নেলসন ম্যান্ডেলা নির্বাচিত হয়ে বর্ণবাদকে যেভাবে দূর করেছেন, ভালোবাসা ও মৈত্রী দিয়ে তার তুলনা কমই আছে। তিনি মানুষকে সাদা আর কালোর বন্ধনীর ভেতরে বাস করতে দেননি। তিনি তাদের একই সমতায় নিয়ে এসেছেন। সেই সঙ্গে তার দেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও ওই সাংস্কৃতিক ও মানবিক মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন। আমরা সেই নিরাপদ ও শান্তিপ্রিয় জাতিসত্তার পতাকা তুলে ধরেছি, নেতা হিসেবে তারেক রহমান তা বহন করার দায়িত্ব পেয়েই তার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন। আমরা, বাংলাদেশি জনগণ শান্তি ও সহাবস্থানে বিশ্বাস করি। আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি, যদি ভারত তার নীতি-আদর্শের প্রতি অনুগত থেকেও বাংলাদেশ ও মানুষের সঙ্গে মমতা ও সৌহার্দ্যরে সেতু নির্মাণ করে। সেই নীতি অর্জিত হতে পারে গণতান্ত্রিক মানুষের অনুমোদনের ভেতর দিয়ে।

জনগণের প্রতিনিধিদের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে তা রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক করে তুলতে পারে। দেব আর নেব/মেলাব মিলিবযদি আক্ষরিকভাবে অনুশ্রিত হয়, তাহলে তারেক রহমান যে দিগন্তের  উন্মোচন করেছেন, সেখানে কোনো কালো মেঘ ও দাগও থাকতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে সার্ক এক বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে। নিরাপত্তা, শান্তি, সহাবস্থান ও প্রগতি অর্জনে সার্ক হতে পারে সেই সেতুবন্ধ, যা তারেক রহমান উচ্চারণ করেছেন। আমাদের মনে আছে, শহীদ জিয়ার স্বপ্ন এই সার্ক প্রায় সোয়া ২০০ কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ও যোগাযোগের নব পরিসর নির্মাণ করবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মতো সার্ক কানেকটিভিটির ক্ষেত্রে অনন্যসাধারণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আমরা কি সেই অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি না?

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত