আমার সন্তানও যদি আইন লঙ্ঘন করে ব্যবস্থা নিতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, চাঁদাবাজ-ভূমিদস্যুদের আইনের আওতায় আনা আমার প্রথম কাজ। সেই সঙ্গে আমার নির্বাচনী এলাকা রাজশাহীকে শান্তির নগরীতে পরিণত করা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিনু এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় প্রশাসনকে সততা, দক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আজ শুক্রবার প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে রাজশাহী আসেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিমিনয়সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিনু বলেন, আমি রাজশাহীর মাটির সন্তান। আমরা একে অপরের সহকর্মী, কেউ কারও বস নই। আপনারা সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত-সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আমার সন্তানও যদি আইন লঙ্ঘন করে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভূমিমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনও অবহেলা বরদাশত করা হবে না। সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ ও সেবামুখী মনোভাব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করে।

রমজান মাসে জনদুর্ভোগ এড়াতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, বাজার পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবা খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে প্রতিদিন আঠারো ঘণ্টা কাজ করছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের প্রতিটি দপ্তর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত