ভারতে খেলবে না বলে আইসিসির সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই খেলা হয়নি বাংলাদেশের। স্বাভাবিকভাবেই দলের ক্রিকেটারদের খারাপ লাগবে বিশ্বকাপ মিস হওয়ায়। তবে, তার চেয়েও ভয়ংকর কথা জানিয়েছিলেন দলের সিনিয়র সহকারী কোচ সালাউদ্দিন। শুক্রবার তিনি জানান যে বিশ্বকাপ মিস করে হতাশায় কোমায় চলে গিয়েছিলেন দুজন ক্রিকেটার।
সালাউদ্দিনের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরে সাইফ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সাইফের সেই স্ট্যাটাস দেখে সবাই ভাবতে থাকেন যে মানসিকভাবে কোমায় চলে যাওয়া ক্রিকেটারদের একজন সাইফ হাসান। তবে শনিবার গণমাধ্যমে আলাপকালে সাইফ নিশ্চিত করেন যে সালাউদ্দিনের বলা ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি নেই।
ফেসবুক পোস্টে সাইফ লিখেছিলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হৃদয়ভঙ্গের স্বাদ থেকে ফিরে আসাটা আসলে সহজ ছিল না, যেহেতু এটি আমার প্রথম বিশ্বকাপ (হওয়ার কথা) ছিল। জীবনের বড় একটি স্বপ্ন ছিল, অনেক ত্যাগ এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করা। আমি নিশ্চিত আল্লাহ আমাদের সবার জন্য আরও ভালো কিছু প্রস্তুত রেখেছেন, যেহেতু তিনিই মহান। এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসা আসলে সহজ ছিল না তবে সেই সময়ে যারা আমাকে মানসিকভাবে সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’
শনিবার গণমাধ্যমে সাইফ নিশ্চিত করেন, ‘জানি না স্যার কাকে নিয়ে বলেছেন। কিন্তু আমি তো না, আমি কোমায় যাইনি।’ নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবারই কষ্ট লেগেছে যারা দলে ছিল, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে আমার (ফেসবুক) স্ট্যাটাসটা ছিল যে আমি অদম্য কাপ যেটা খেলছি, ওখান থেকে ভালো একটা শেপে আসছি। তো সেটা একটা স্বস্তিকর বিষয়। তাই কেবল ওটাই আমি শেয়ার করেছি, আমার অনুভূতিটা শেয়ার করছি।’
অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়ে নতুন সূচনার কথাও বলেন সাইফ, ‘ওই টুর্নামেন্টে আসার আগে বেশ কয়েকদিন ব্রেক ছিল। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছি। কিছুদিন ক্রিকেটের বাইরে ছিলাম। সব মিলিয়ে একটা নতুন সূচনা ছিল। তাই ওখানে ভালো হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। চেষ্টা থাকবে জিনিসটা ধরে রাখার।’
বিশ্বকাপ খেলতে না পারার খারাপ-লাগা থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান তিনি, ‘না, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আপনি যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারবেন ওটাই আপনার জন্য ভালো। তাই আমাদের চেষ্টা এটাই ছিল যত তাড়াতাড়ি আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি। কৃতজ্ঞ যে একটা বিরতি ছিল, সেটা আমরা খুব ভালোমতো ব্যবহার করতে পেরেছি।’