নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের পর এবার কৃষক কার্ড বিতরণের কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে। দেশের সব কৃষক এ কার্ড পাবেন। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড চালু-সংক্রান্ত একটি সভা শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
কৃষক কার্ড দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিগতভাবে বহু আগেই এটি দলের সিদ্ধান্ত ছিল। এবার তা বাস্তবায়নের জন্য প্রথম বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইনশাআল্লাহ যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে।’
কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প কবে নাগাদ শুরু হবে সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সময়টি এ মুহূর্তেই বলা যাচ্ছে না। কারণ, এতে প্রস্তুতির বিষয় জড়িত। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শ হচ্ছে, যত দ্রুত সম্ভব এটা করা।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সভায় দেশের প্রান্তিক কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষি প্রণোদনা বিতরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে এ কার্ড চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ এবং তাদের কাছে সরাসরি সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।’
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি।
তাই দেশের সব কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকরা যাতে ন্যায্য পাওনা ও সরকারি ভর্তুকি সহজে পান, তা নিশ্চিত করতেই এ স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।’ এ সময় তারা কৃষক কার্ডের কারিগরি দিক, বিতরণ পদ্ধতি এবং ডেটাবেজ তৈরির অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। সভায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী : সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় পদোন্নতিপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন তিনি। পদোন্নতিপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। এরপর সশস্ত্র বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারেক রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.), সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম প্রমুখ।
সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করেন। এরপর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যান। সেখানে প্রথমে ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেন। বিকেলে অফিস থেকে সরাসরি গুলশানে নিজ বাসভবনে যান। বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করেন প্রধানমন্ত্রী।