ফেনীর সোনাগাজীতে জামায়াত কর্মীর স্ত্রীকে নির্যাতনের মীমাংসা করতে গিয়ে নির্মমভাবে খুনের শিকার হলেন আইয়ূব নবী তারেক নামে তাঁতী দল নেতা। অভিযোগ উঠেছে জামায়াত কর্মীর পরিবার তাকে সালিশ বৈঠকের কথা বলে ডেকে নিয়ে খুন করেছে। গত বুধবার ইফতারের কিছুক্ষণ পর উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুণক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাঁতী দল নেতার নাম আইয়ুব নবী তারেক। তিনি বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গুণক গ্রামের লক্ষমাল বাড়ির কামাল উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, স্থানীয় জামায়াত কর্মী নাহিদের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে দীর্ঘ দিন যাবত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। নিকটাত্মীয় তাঁতী দল নেতা তারেক বিষয়টি একাধিকবার মীমাংসা করে দিয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় ফের নাহিদের স্ত্রী তার ওপর নির্যাতনের বিচার চেয়ে তারেককে ওই বাড়িতে ডেকে নেন।
ফের নির্যাতন করলে নাহিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের শাস্তি দেবেন বলে তারেক ভয়ভীতি দেখান। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াত কর্মী নাহিদ, তার ভাই আবু সাঈদ, পিতা ওহিদুর রহমান এবং মা নুর নাহার মিলে তারেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
এদিকে তাঁতী দল নেতাকে হত্যার ঘটনায় রাতে ফেনী শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা তাঁতী দল। তারা ঘটনার জন্য জামায়াত শিবিরকে দায়ী করে বিভিন্ন সেøাগান দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায়। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন।