দাপুটে দক্ষিণ আফ্রিকা

শেষ ম্যাচে ভারতকে হারাতেই হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ এএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের ধারা ভেঙেছে গতকাল। পাঁচ ম্যাচে শতভাগ জয় পাওয়া দলকে ৯ উইকেটে বিধ্বস্ত করে দক্ষিণ আফ্রিকাই এখন টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল। এই জয়ে ইংল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে গতবারের রানার্সআপরা।

টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ভালোই। কেশব মহারাজের প্রথম ওভার থেকেই ওঠে ১৭ রান, যা দলটির জন্য বিশ্বকাপের প্রথম ওভারে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

অথচ এমন ভালো শুরুর পরও পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। উইকেটের পতন থামেনি এরপরও। তবে সপ্তম উইকেট হারানোর পরই শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর। হোল্ডার-শেফার্ডের ৫৭ বলের ওই জুটিতে ছক্কাই আসে ১১টি। রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেওয়া ৮৭ রানের জুটিই শেষ পর্যন্ত রানটা নিয়ে গিয়েছিল ভালো জায়গায়।

এর ফাঁকে কিছু রেকর্ডও গড়ে ফেলেন তারা। ১০০ রানের আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এটি। বাংলাদেশের পেসার তানজিম হাসান সাকিবের পর টেস্ট খেলুড়ে দেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৯ নম্বরে নেমে রোমারিও শেফার্ড পান ফিফটি।

লক্ষ্য তাড়ায় একচেটিয়া দাপট : দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শুরু থেকেই ছিল নিয়ন্ত্রিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত ব্যাটিংয়ে ভরা। মার্করাম অনায়াসে চার-ছক্কা মারেন। তার সঙ্গে সমানতালে আক্রমণ চালান কুইন্টন ডি কক। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তিনি শামার জোসেফকে রীতিমতো আক্রমণের মুখে ফেলেন। প্রথম ছয় ওভারেই আসে ৬৯ রান।

দুজনকে থামানো যাচ্ছিল না। বিশেষ করে ডি ককের সামনে গুডাকেশ মোতির ভ্যারিয়েশন মারাত্মকভাবে মার খায়। অধিনায়ক শাই হোপের ভাষায় ‘কৌশলগত’ নির্বাচিত অফস্পিন অলরাউন্ডার রোস্টন চেজকে ডি ককের বিপক্ষে আনা হয় বিস্ময়করভাবে শুধু অষ্টম ওভারে। এরপর ডি কক মিড উইকেট দিয়ে বল পাঠান গ্যালারিতে, আরও একটি পুল করে বাউন্ডারি মারেন, তারপর হোল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।

তিন নম্বরে নেমে রায়ান রিকেলটন গতি ধরে রাখেন। অন্যপ্রান্তে মার্করাম অনায়াসেই ফিফটি পূর্ণ করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে কয়েকটি কঠিন ক্যাচের সুযোগ এসেছিল, কিন্তু সেগুলোও কাজে লাগেনি। বোলাররাও ছিলেন একেবারেই অনুপ্রবেশহীন।

১০ ওভার শেষে স্কোর যখন ১০৯/১, তখন ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নির্ধারিত হয়ে যায়। এরপর কেবল প্রশ্ন ছিল কখন শেষ হবে, হবে কি না তা নয়। রিকেলটন ও মার্করাম নিয়মিতই গ্যালারিতে বল পাঠাতে থাকেন। হোল্ডার ও শেফার্ড কয়েকটি নিখুঁত ইয়র্কার করে লড়াইটা কিছুটা বিলম্বিত করেন মাত্র।

শেষ পর্যন্ত রিকেলটন অপরাজিত থাকেন ৪৫ রানে। আর হোল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে নিচু হাতে তোলা এক দুর্দান্ত লফটেড শটে ম্যাচ শেষ করেন মার্করাম। অপরাজিত ৮২ রানের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে এইডেন মার্করামের হাতে।

কিন্তু ডি কক-মার্করাম আর রিকেলটন এমন ব্যাটিং করেছেন যে, সবই গেছে বৃথা। সেমিফাইনালে যেতে হলে শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জেতার আর কোনো বিকল্প নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২০ ওভারে ১৭৬/৮ (শেফার্ড ৫২*, হোল্ডার ৪৯; এনগিডি ৩/৩০, বশ ২/৩১)

দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৬.১ ওভারে ১৭৭/১ (মার্করাম ৮২*, ডি কক ৪৭; চেজ ১/৪৬)। ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : এইডেন মার্করাম

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত