দুর্নীতির মামলায়  দুই বছর পর খালাস কেজরিওয়াল

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ এএম

প্রায় দুই বছর আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এরপর মাসের পর মাস কেটেছে জেলে। অবশেষে ভারতের একটি আদালত অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে সেই দুর্নীতির মামলা খারিজ করে দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার আদালত কেজরিওয়ালসহ ২৩ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ওই আবগারি নীতিতে ‘বড় কোনো ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না।’

২০২৪ সালের মার্চ মাসে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তার সরকারের মদ নীতি নাকি বেসরকারি বিক্রেতাদের অন্যায্য সুবিধা দিয়েছিল।

গতকাল রায় ঘোষণার সময় দুর্বল তদন্তের জন্য বিচারক সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআইয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন। এমনকি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই তদন্তের সুপারিশ করেছেন তিনি। তবে সিবিআই জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

শুক্রবারের এই আদেশের পর আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন কেজরিওয়াল। তখন সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীষ সিসোদিয়া তাকে জড়িয়ে ধরেন। কেজরিওয়াল বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত অধর্ম আর অবিচার পরাজিত হয়েছে, কেবল সত্যই জয়ী হয়েছে।’

এই মামলায় ২০২৩ সালে সিসোদিয়া এবং আম আদমি পার্টির (আপ) মুখপাত্র সঞ্জয় সিংকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালত যে ২৩ জনকে অব্যাহতি দিয়েছে, তাদের মধ্যে তারাও আছেন।

গ্রেপ্তারের পর আম আদমি পার্টির এই তিন নেতাকেই দীর্ঘ সময় জেলে কাটাতে হয়েছে। নিম্ন আদালত ও দিল্লি হাইকোর্ট বারবার তাদের জামিন নাকচ করেছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তারা স্বস্তি পান।

কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছিলেন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং বিরোধী নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। রাজধানীতে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো বিজেপির নিয়ন্ত্রণেই থাকে। তবে বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আইনি খবরবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’ জানিয়েছে, শুক্রবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত সিবিআইয়ের সমালোচনা করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত