বাবার সঙ্গে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন
প্রিয় ভাষা বাংলা, প্রিয় বর্ণমালা। বাংলা আমার প্রথম বুলি। জন্মেছি এই বাংলায়। বাঙালি আমি। রক্তমাখা ভাষার গৌরবের ইতিহাস বাবার মুখে শুনে এ বছর শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলাম।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা’র দাবিতে জীবন উৎসর্গী শহীদের রক্তের দামে পেয়েছি এ ভাষা। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই সংগ্রাম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পায়। তাই গর্বে বুক ভরে যায়। এ বছর ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আঁকিয়ে অন্য শিল্পীদের সঙ্গে আমিও নানা রঙের আলপনা আঁকায় অংশ নিয়েছি। বিকেলে মায়ের সঙ্গে গিয়েছিলাম। রাতে আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু মা রাতে না এনে বিকেলে নিয়ে এসেছিল শহিদ মিনারে।
২১ ফেব্রুয়ারি ছুটির দিন থাকায় মাকে বলে দেই ভোরে ডেকে দিতে। ভোর সাড়ে ৬ টায় কপালে একুশে লেখা কাপড় আর কালো পোশাক পড়ে বাবার সঙ্গে রওনা হই শহীদ মিনারের দিকে। কিছুটা এগিয়ে এসে দোকান থেকে পতাকা আর ফুলের তোড়া বাবা কিনলেন।
লাল-সবুজের পতাকা এক হাতে অন্য হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে খালি পায়ে প্রভাত ফেরিতে যোগ দেই। মানুষের লম্বা লাইন। বাবার হাত ধরে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানে কণ্ঠ মিলিয়ে এগিয়ে যাই শহীদ মিনারে। নানান ফুলে ফুলে ভরে ছিল শহীদ মিনার। তারপর ফুল দিয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে নীরবতা পালন করি বীর সন্তানদের জন্য। শহীদ মিনারে আসতে পেরে খুশি হয়েছি। বাংলা আমার মনের আনন্দ, বাংলা আমার অহংকার।
রুদ্রদীপ পাল
শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় শ্রেণি, টঙ্গিবাড়ী সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন, মুন্সীগঞ্জ
একুশে ফেব্রুয়ারি
একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শহীদ দিবস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিনে আমরা প্রভাতফেরিতে যাই। শহীদ মিনারে
ফুল দিই।
একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের মন খারাপ থাকে। কারণ তখন পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষরা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিলাম। তাই আমরা আন্দোলন শুরু করি। আন্দোলনে অনেক মানুষ শহীদ হন। পরে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা হয়।
এজন্য আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই। আমরা তাদের ভালোবাসি এবং স্মরণ করি।
সপ্তর্ষি দে
শিক্ষার্থী, তৃতীয় শ্রেণি, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা
১৯৫২
১৯৫২ যেন এক, রক্তভেজা নাম
লাল রঙে রাঙিয়ে গেল, সকল রাস্তাঘাট।
১৯৫২’র, ২১শে ফেব্রুয়ারি
চারপাশে চিৎকার-চেঁচামেচি,
আর শুধু গোলাগুলি।
১৯৫২’র এই দিনে, শুধু রক্তের জোড়াজুড়ি
ভাষাশহীদদের স্মরণ করব, প্রাণ ভরি, বুক ভরি।
আওসাফ যাইন
শিক্ষার্থী, তৃতীয় শ্রেণি, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা