মায়ের ভাষা
জহিরুল হক বিদ্যুৎ
মায়ের মুখে প্রথম শিখি
মিষ্টি বাংলা বুলি,
অ আ ক খ পাতার
বইটি যখন খুলি।
পাখির গানে নদীর তানে
বাংলা কথা ভাসে,
সোনার দেশে ধানের ঘ্রাণে
মায়ের হাসি হাসে।
রফিক, সালাম, বরকতেরা
রক্ত দিল ঢেলে,
সেই ভাষাতে আমরা গড়ি
স্বপ্ন দুচোখ মেলে।
ভালোবাসি বাংলা ভাষা
বলি মনের কথা,
ভাষার মান যে রাখব ধরে
নোয়াবো না মাথা।
শোকের ফেব্রুয়ারি
নকুল শর্ম্মা
কেমন করে ভুলি বলো
একুশ ফেব্রুয়ারি?
বায়ান্নতে বাংলা জুড়ে
ভাষার হুশিয়ারি।
ভাষার জন্য শহীদ হলো
তরুণ তাজা প্রাণ,
আজও তাদের রক্তে ছড়ায়
গোলাপ কলির ঘ্রাণ।
মায়ের ভাষায় কথা বলার
যাদের অবদান,
হাজার মানিক রতন দিয়ে
হয় না প্রতিদান।
বাবার কান্নার করুণ গাঁথা
মায়ের আহাজারি,
একুশ এমন রক্ত গোলাপ
শোকের ফেব্রুয়ারি।
দুঃখ ব্যথা সব ভুলে যাই
মায়ের ভাষার দানে,
বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষা
ফেব্রুয়ারির গানে।
এই ভাষাতে
আ. শ. ম. বাবর আলী
মুখের ভাষা বুকের ভাষা
আমার বাংলাভাষা,
এই ভাষাতে কথা বলে
পুরাই মনের আশা।
মনের যত ভাবনা প্রকাশ
এই ভাষাতেই করি,
এই ভাষাতেই গান যে গেয়ে
পরাণ আমার ভরি।
এই ভাষাতে গল্প পড়ি
এই ভাষাতে লিখি,
এই ভাষাতে মাকে আমার
‘মা’ ডাকতে শিখি।
এই ভাষারই জন্য ভাইরা
গড়লো ইতিহাস,
ঘটনাটা ফেব্রুয়ারির
বাংলা ফাগুন মাস।
রক্তরাঙা একুশ
শাহীন সুলতানা
ফেব্রুয়ারির একুশ বলো
ভুলি কেমন করে?
ভাই যে দিল জীবন সঁপে
বাংলা ভাষার তরে!
রক্তে রাঙা একুশ তারিখ
হারিয়ে গেল ভাই,
মায়ের বুকে ব্যথার নদী
তুলনা তার নাই।
একুশ আসে রঙের আলোয়
কৃষ্ণচূড়ার ডালে,
শিমুল-পলাশ জাগে আজও
ভাইয়ের রক্তলালে।
ক্যামনে শুধি বলো মাগো
মাতৃভাষার ঋণ!
একুশ তারিখ আমার ভাইয়ের
শহীদ হওয়ার দিন।
একুশ আছে বাংলা ভাষায়
সোমা মুৎসুদ্দী
একুশ আছে বাংলা ভাষায়
একুশ আছে প্রাণে
একুশ আছে ফেব্রুয়ারির
প্রভাতফেরির গানে
একুশ আছে খোকার বোলে
খুকির রাঙা মুখে
একুশ আছে রক্তে ভেজা
বীর শহীদের বুকে।
একুশ আসে প্রতি বছর
নীরব কান্না হয়ে
বর্ণমালার রক্তস্রোতও
যায়রে কষ্ট বয়ে।