পপ সম্রাটের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ এএম

দেশের রক সংগীতের গুরু বা সম্রাট হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খানের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৫০ সালের এই দিনে (২৮ ফেব্রুয়ারি) জন্মগ্রহণ করা এই রকস্টার একাত্তরের লড়াকু মুক্তিযোদ্ধাও বটে। গানের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বিজ্ঞাপন চিত্রে মডেলিং করতেও দেখা গেছে অসংখ্য জনপ্রিয় গানের এই স্রষ্টাকে।

বাংলাদেশে স্বাধীনতা পরবর্তী একটি প্রজন্মকে রীতিমতো কাঁপিয়েছেন তিনি। শুধু বাংলাদেশেই নয় গোটা উপমহাদেশেও আজম খান পেয়েছিলেন অসাধারণ জনপ্রিয়তা।

১৯৭১ সালের পর আজম খান ‘উচ্চারণ’ নামে একটি ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। উচ্চারণের গান সংগীত জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেখানে আজম খানের সঙ্গে তার বন্ধু নিলু আর মনসুর গিটার বাজাতেন, সাদেক বাজাতেন ড্রাম। আজম খান প্রধান ভোকাল হিসেবে গান করতেন।

১৯৭২ সালে বিটিভিতে একটি গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তাদের গান তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সেই অনুষ্ঠানের ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ ও ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দু’টি সরাসরি প্রচার হওয়ার পরেই ব্যাপক প্রশংসা আর তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় দেশ জুড়ে।

১৯৭৪ সালের আজম খান বাংলাদেশ টেলিভিশনে আরেকটি অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ’ (রেললাইনের ঐ বস্তিতে) শিরোনামের গানটি গেয়ে হইচই ফেলে দেন।

আজম খানের পাড়ার বন্ধু ছিলেন ফিরোজ সাঁই। পরবর্তী সময়ে তার মাধ্যমে পরিচিত হন ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, পিলু মমতাজের সঙ্গে। এক সঙ্গে বেশ কয়েকটা জনপ্রিয় গান করেন তারা। এরই মধ্যে আরেক বন্ধু ইশতিয়াকের পরামর্শে সৃষ্টি করেন একটি এসিড-রক ঘরানার গান ‘জীবনে কিছু পাবো না এ হে হে!’ বলা হয়, এটি বাংলা গানের ইতিহাসে- প্রথম হার্ডরক!

ব্যক্তিগত জীবনে সহজ সরল জীবন যাপন করতেন তিনি। আজম খান বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার আলম খানের ছোটভাই। ১৯৭১ সালে একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঢাকায় কয়েকটি গেরিলা অভিযানে অংশ নেন আজম খান।

 আজম খানকে একুশে পদক দেওয়া হোক এই দাবি উঠেছিল অনেক দিন আগে থেকেই। প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা আজম খানের ভক্তকুলদের সেই দাবি পূর্ণ হয়েছে। মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন আজম খান।

নিজের গাওয়া গানের মাধ্যমে বেঁচে আছেন আজম খান। তার গাওয়া ‘বাংলাদেশ’, ‘রেল লাইনের ঐ বস্তিতে’, ‘ওরে সালেকা, ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘অনামিকা’, ‘অভিমানী’, ‘আসি আসি বলে’ এর মতো অসংখ্য গান এখনো হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত