পে-স্কেল: দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

৯ম পে-স্কেল কার্যকরের দাবিতে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামোগত বৈষম্য নিরসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংগঠনের দাবি, ২০১৫ সালে প্রণীত ৮ম পে-স্কেলে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি, আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে উপস্থাপন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ বেড়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে ছয় সদস্যের একটি পরিবারের ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের নেতাদের। তারা মনে করেন, বাস্তব বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৯ সাল থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আবেদন ও বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে গঠিত পে-কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। সরকারের আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—

১. ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান।

২. একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবিপত্র উপস্থাপন করবেন।

৩. পবিত্র রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশ, মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু না হলে ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য নিরসন এবং কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে সরকার দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত