সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ী গ্রামে অবস্থিত রায়দৌলতপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এক পাশে নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকায় পরিত্যক্ত একটি ভবন মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ফলে প্রায় সময়ই কোয়ার্টারের জিনিসপত্র চুরি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকার কারণে কোয়ার্টারে থাকেন না কর্মচারিরা। ফলে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি ভূতুড়ে নগরীতে পরিনত হয়েছে। অপরদিকে চৌবাড়ী গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নাম চৌবাড়ী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
চৌবাড়ী গ্রামে অবস্থিত রায়দৌলতপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের একতলা বিশিষ্ট কয়েকটি ভবন পরিত্যক্ত হয়ে পরে আছে। অপরদিকে দুটি প্রতিষ্ঠান একই জায়গায় হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে রায়দৌলতপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। দুটি প্রতিষ্ঠানের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে নিরাপত্তা প্রাচীর আছে। কিন্তু উত্তরপাশে প্রাচীর নেই। এতে পরিত্যক্ত ভবনগুলোয় মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে। সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মাদক সেবনের নানা সরঞ্জাম পড়ে আছে।
এ দুটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারিরা জানান, একপাশে নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকায় রাতে এখানে মাদক সেবীরা মাদক সেবন করে। এমন কি অনেক সময় দিনে দুপুরেও মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। কোয়ার্টারে এর আগে একজন নারী মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট তার মাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এক পর্যায়ে দুবৃর্ত্তরা তার জানালার গ্রীলের মধ্যে দিয়ে তার মশারির ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর তিনিও এখান থেকে চলে যান। এরপর ভয়ে আর কেউ কোয়ার্টারে থাকতে চান না।
রায়দৌলতপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দিলারা সুলতানা জানান, এক পাশে নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকায় পরিত্যক্ত ভবনগুলোয় মাদকের আস্তানা গড়ে উঠেছে। ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না। আমি এই একই প্রতিষ্ঠানে ২০ বছর ধরে কর্মরত আছি। এখানকার কোয়ার্টার আধুনিক মানের হলেও চোর ও মাদকসেবীদের আতঙ্কে কেউ থাকতে পারি না। প্রাচীর নির্মাণের জন্য কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। কিন্তু এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কামারখন্দ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আ স ম আশরাফুজ্জামান জানান, রায়দৌলতপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এক পাশের নিরাপত্তা প্রাচীরের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তিনি আরও বলেন, পরিত্যক্ত ভবনগুলো উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির নামের পাশে চৌবাড়ী লেখারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী শাহীনুর ইসলাম জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া আছে। সেগুলো অনুমোদন হলে রায়দৌলতপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এক পাশের নিরাপত্তা প্রাচীর সহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন আকন্দ জানান, নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযানে চলতি মাসে ২টি মাদক মামলা হয়েছে এবং দুইজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। চৌবাড়ী গ্রামের রায়দৌলতপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এলাকা সহ থানাজুড়ে মাদক বিরোধী অভিযান বাড়ানো হবে।
