বিশ্ব র্যাংকিংয়ে উত্তর কোরিয়া নবম স্থানে, এশিয়ার র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয়। চীন বিশ্বে ১৭তম, এশিয়ায় পঞ্চম। আর উজবেকিস্তান বিশ্ব র্যাংকিংয়ে আছে ৪৯তম স্থানে, এশিয়ায় নবম। আর বাংলাদেশের বিশ্বে অবস্থান ১১২, এশিয়ায় ২১তম। আজ থেকে অস্ট্রেলিয়ার তিন শহরে শুরু হতে যাওয়া ১২ দলের ওমেন্স এশিয়ান কাপে র্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশ সবার নিচে। বি গ্রুপের চার দলের শক্তি যদি র্যাংকিংয়ের নিক্তিতে বিচার করা হয়, তবে তিন ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য হবে অসম লড়াই। এতে বড় বড় হারের লজ্জা যেমন চোখ রাঙাচ্ছে, তেমনই একটা জায়গায় বাংলাদেশ থাকছে ভীষণ নির্ভার। শক্তি-সামর্থ্যরে পার্থক্যটা জানা বলেই এই তিন ম্যাচে হারাবার কিছু নেই ঋতুপর্ণা চাকমাদের। বরং পাওয়ার আছে অনেক কিছুই। আর সেই পাওয়ার হাতছানিই টুর্নামেন্ট শুরুর আগ মুহূর্তে উজ্জীবিত করে তুলেছে পিটার বাটলারের দলকে। সিডনিতে সপ্তাহ খানেক নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলনের পর ফলের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে বাংলাদেশের মেয়েরা বড় মঞ্চে ভালো ফুটবল খেলার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন।
সিডনি আসার পর থেকে ভ্যালেন্টাইন পার্কে টানা অনুশীলন করেছে দল। স্থানীয় একটি দলের সঙ্গে একটা প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে। শেষ দুই দিন অবশ্য আনুষ্ঠানিক প্র্যাকটিস ভেন্যু জুবিলি স্টেডিয়ামে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সাড়ছে তারা। ৩ মার্চ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সিডনির জল-হাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা মোটামুটি উতরে গেছেন ফুটবলাররা। প্রস্তুতি ম্যাচের খামতিগুলো নিয়েও কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন কোচ। সবচেয়ে ইতিবাচক হলো, দলে কোনো চোট সমস্যা নেই। বরং সিডনি বিশ্বমানের সব মাঠে অনুশীলনের সুযোগ পেয়ে ভীষণ খুশি গোটা দল।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মর্যাদার মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গত জুলাইয়ে মিয়ানমারে যে অবিস্মরণীয় বাংলাদেশের দেখা মিলেছিল, তার পুনরাবৃত্তি হলে, অন্তত ভালো খেলার আনন্দটা সঙ্গী হবে মেয়েদের। দলের তরুণ ফরোয়ার্ড সুরভী আখন্দ প্রীতি শনিবার বাংলাদেশ থেকে আসা সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার কথায় ছিল আত্মবিশ্বাস, নিজেকে নিয়ে, দলকে নিয়ে তিনি ভীষণ আশাবাদী, ‘যদি আমি খেলার সুযোগ পাই, সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। এই প্রথম বাংলাদেশ এত বড় আসরে খেলবে, এটা ভাবলেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি। ট্রেনিং সেশনে আমরা ভীষণ মনোযোগী, অনুশীলনে কোচ আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিচ্ছেন, শুধরে নিতে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’
ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের সঙ্গে ক্লোজড ডোর প্রস্তুতি ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়েছিল। সেই ম্যাচ থেকেই কোচ যে সেরাদের বেছে ফেলেছে, তা প্রীতির কথাতেই পরিষ্কার, ‘এখানে আসার পর আমরা একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলছি। ওখানে যা ভুলত্রুটি হয়েছে, কোচ আমাদের সেটা নিয়ে দুটি ট্রেনিং সেশন করিয়েছেন।’
এদিকে জুবিলি স্টেডিয়ামের ঝাঁ তকতকে মাঠে দুদিন মুগ্ধতা নিয়ে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এই মাঠে অনুশীলনের সুযোগ পেয়ে একটু আক্ষেপও সঙ্গী হয়েছে দলের অভিজ্ঞ লেফটব্যাক শিউলি আজিমের।
নিজেদের প্রস্তুত করতে দেশের মাটিতে গত এক বছরে বাংলাদেশকে বেশিরভাগ সময় বেছে নিতে হয়েছে কমলাপুর স্টেডিয়ামের কৃত্রিম টার্ফ। এর বাইরে বাফুফে ভবনের পাশে বসানো টার্ফ ছিল বিকল্প। অথচ বাংলাদেশকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠে। আক্ষেপ করে শিউলি বলেন, ‘সিডনিতে সুযোগ-সুবিধা সেরা পর্যায়ে আছে। বিশেষ করে মাঠগুলো এক কথায় অসাধারণ। মাঠ কতটা ভালো, বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের দেশে এমন মাঠ থাকলে হয়তো আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে পারতাম। আমাদের দেশের তুলনায় এ দেশের সব মাঠই ভালো।’ শিউলি আরও যোগ করেন, ‘আশা করি আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারব। আমরা এখানে আসার পর একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে। সেখানে যে ভুলগুলো ছিল সেগুলো নিয়ে কোচ কাজ করছেন।’
যেহেতু গ্রুপের তিন দলই শক্তিতে অনেক এগিয়ে, বড় পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে। শিউলি ছাড়াও অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার সিনিয়রদের প্রস্তুতিটা তাই হতে হবে সেরা পর্যায়ে। শিউলি আত্মবিশ্বাসী, বলেছেন দেশের জন্য সেরাটা দিতে প্রস্তুত তারা। আর সেরাটা দিলে এবং ৩, ৬ ও ৯ মার্চ প্রতিপক্ষদের ‘বাজে দিন’ চলে এলে, বাটলারের শিষ্যরা চমকে দিতে পারে গোটা এশিয়াকে। প্রথম অভিজ্ঞতায় সেই চমকে দেওয়াটাই বা কম কীসে?