স্বর্গোদ্যানে টিকে থাকার লড়াই

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৭ এএম

সেই ইডেন, সেই ড্যারেন সামি। এখানেই এক দশক আগে দর্শকদের বিস্ময়ে স্তব্ধ করে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ড্যারেন সামির ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ সেই ইডেনেই স্বাগতিক ভারত প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের। নামে সুপার এইটের ম্যাচ, আসলে কোয়ার্টার ফাইনাল। জয়ী দলের গন্তব্য সেমিফাইনাল, হারলে ফিরতি ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দর।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানে পাল্লাটা ভারতের দিকেই ঝুঁকে। ৩০ ম্যাচে ভারতের জয় ১৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০, একটা ম্যাচে ফল হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ হয়ে আসা সামি শনিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে যথার্থই বলেছেন, এ যেন ডেভিড আর গোলিয়াথের লড়াই, ‘টুর্নামেন্টে সামনের দিকে যেতে হলে কোনো এক পর্যায়ে  ভারতকে হারাতেই হবে। আমি এই লড়াইটার দিকে তাকিয়ে আছি। মাঠে ৮০,০০০ মানুষ, আর মাঠের বাইরে ১৪০ কোটি... এটা অনেকটা ডেভিড বনাম গোলিয়াথ লড়াইয়ের মতো, তবে মানুষ ভুলে যায় যে সেই লড়াইয়ে কিন্তু ডেভিডই জিতেছিল।’ প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত সেই লড়াইয়ে বিশালদেহী যোদ্ধা গোলিয়াথকে গুলতি দিয়ে পাথর ছুড়েই মেরেছিলেন কিশোর ডেভিড, ইডেনে স্যামি পাচ্ছেন ১১ জন যোদ্ধাকে,  ‘আমাদেরও ১১ জন ভয়ংকর খেলোয়াড় আছে, ভারতেরও ১১ জন ভয়ংকর খেলোয়াড় আছে। তাই এটি হবে দুটি দুর্দান্ত দলের মধ্যকার এক লড়াই’। যুদ্ধের ময়দান অর্থাৎ মাঝের ২২ গজ নিয়ে তার ভাবনা, ‘আমার কাছে মনে হয়েছিল এটা (পিচ) বেশ শুকনো। তবে ম্যাচের এখনো প্রায় ২৬ ঘণ্টা বাকি আছে, তাই পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তবে আমরা শিশির  নিয়েও খুব একটা চিন্তিত নই। ওটা তো আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’ ফাল্গুনের শেষ, বাতাসে আর্দ্রতার চেয়ে চৈত্রের শুষ্কতার আগমনী সুরই তীব্র। সন্ধ্যার ম্যাচে শিশির হয়তো খুব একটা ভোগাবে না। যতটা না ভোগাবে ভারতের স্পিন আক্রমণ। ইডেনে খেলতে নামলে গৌতম গম্ভীর নিঃসন্দেহে একাদশে বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে কুলদীপ যাদব আর অক্ষর প্যাটেলকে রাখবেন। নতুন বলে জসপ্রিত বুমরাহর সঙ্গে হার্দিক পান্ডিয়া। দরকার পড়লে হাত ঘোরাবেন শিভাম দুবে কিংবা তিলক বর্মা।

বিশ্বকাপের মাঝেই পিতার প্রয়াণের শোক সংবাদ পেয়েছেন রিঙ্কু সিং। অন্তিম সংস্কার শেষে তিনি ফিরেছেন কলকাতায়, যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে। তবে ইডেনে হয়তো তাকে বসেই থাকতে হবে। সঞ্জু স্যামসন এসেছেন একাদশে, অভিষেক শর্মার সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তনে হয়তো তাকেই দেখা যাবে। ইশান কিষাণ নেমে এসেছেন তিনে। তিলক নেমে গেছেন ছয়ে। একই ছকে ইডেনে দেখা যেতে পারে ভারতকে, শুধু আর্শদীপ সিংয়ের বদলে কুলদীপ যাদব। সংবাদ সম্মেলনে ভারতের হয়ে এসেছিলেন সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাট। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, দল পুরোপুরি প্রস্তুত। এরা সবাই পেশাদার ক্রিকেটার যারা এই মুহূর্তগুলোর জন্যই বেঁচে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই হতাশার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোটা জরুরি ছিল। আমার মনে হয় চেন্নাইয়ের ঐ কয়েক দিনের প্রস্তুতিতে ছেলেরা নিজেদের খুব ভালোভাবে সামলে নিয়েছে। গতকাল আমাদের একটা ছুটির দিন ছিল, ভ্রমণের দিন ছিল, আর আপনি আজ দেখবেন ঐচ্ছিক  অনুশীলন সেশনেও প্রায় সবাই উপস্থিত। আমরা এইমাত্র টিম মিটিংয়ে আমাদের পরিকল্পনাগুলো ঝালিয়ে নিয়েছি। এখন শুধু কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সামান্য কিছু খুঁটিনাটি কাজ বাকি। আমরা নিজেদের ওপর মনোযোগ দিচ্ছি এবং লক্ষ্য একটাই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন আপটা দীর্ঘ, দলে একাধিক অলরাউন্ডার। এমন একটা দলের বিপক্ষে রান আটকে রাখার চেষ্টার মতো কৌশল কাজে দেবে না বলেই মনে করেন ডেসকাট, ‘আমাদের উইকেট নেওয়ার দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুধু রান আটকে রাখার সেই পুরনো আমলের কৌশল এখন আর কাজে আসে না। ১০ বছর আগে, ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করা ভারতের শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিল অধিনায়ক সামির ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইতিহাসের কি পুনরাবৃত্তি ঘটবে ইডেনে, নাকি ইতিহাস বদলে দেবে গম্ভীর যুগের ভারত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত