মঠবাড়িয়ায় সড়কের ইট তুলে ফেললেন ঠিকাদার : নেপথ্যে আ.লীগ নেতা!

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ২নং ধানিসাফা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বুড়িরচর মমিন মসজিদ সংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের ৪০০ ফুট হেরিনবন রাস্তার ইট তুলে ফেলেছেন শেচ প্রকল্পের ঠিকাদার। এ ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্লিনিকের সামনের রাস্তার ইট তুলে ফেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার জানান, সেচ প্রকল্পের ২০ বছর আগে স্থানীয় হাওলাদার বাড়ির সামনে রোডস এন্ড হাইওয়ে সাবেক ইঞ্জিনিয়ার মরহুম মতিউর রহমান বেপারীর সুপারিশে সেচ প্রকল্পের একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়। ড্রেনটি নির্মাণের পর থেকে কোন সংস্কার না করায় এটি এখন বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে নতুন সেচ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত স্থাপনা মমিন মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে রাস্তা থেকে নিলে, পাইপের মাথায় স্কুল মাঠ এরপরে মমিন মসজিদ পুকুর, আসলে আমরা বুঝি না এই পানি কোথায় যাবে?

স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক কালাম হাওলাদার বলেন, মমিন মসজিদ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম একটি নিদর্শন। সরকারি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এর রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড আ'লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মরহুম মমিন সাহেবের নাতি পরিচয়ে মমিন মসজিদকে পুঁজি করে প্রত্যেক বছর সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে ভুল বুঝিয়ে বরাদ্দ নেন। কিন্তু সেই বরাদ্দের কিছু অংশ করেই পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন।

এদিকে ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এমপি থাকাকালীন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মসজিদের নামে একটি বাথরুমবাবদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আনেন। সে সময়ে প্রাইমারি স্কুল থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত ২০০ ফুট হেরিনবন রাস্তার টাকা বরাদ্দ করলেও ১০০ ফুট রাস্তা করেন। বাকি যতটুকু রাস্তা ছিল বর্তমান ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছ থেকে বরাদ্দ এনে খোকন মেম্বারের মাধ্যমে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪০০ ফুট  রাস্তা নির্মাণ শেষ করার একমাস পরেই সম্পূর্ণ রাস্তা ইট তুলে ফেলা হয় সেচ প্রকল্প পাইপ নেওয়ার জন্য। রাস্তার দু পাশে সেচ প্রকল্পের পাইপ নেওয়ার জায়গা থাকলেও নতুন রাস্তা খুঁড়ে কাজ করছেন নিজের খেয়াল খুশি মত। এছাড়াও বর্তমানে আবার মসজিদ (মাদ্রাসা) দেখিয়ে বাথরুম, ওজুখানা নামে আরেকটি বরাদ্দ পাস করিয়ে নতুন স্থাপনার তৈরি করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, আবুল কালাম আজাদ কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের রাস্তা তুলে ফেলে। এতে রোগীদের যাতায়াতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আবুল কালাম আজাদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবাসন ঘর নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে গান তৈরি করে (এক মা আমায় জন্ম দিল এক মা দিল ঘড়) কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত ডা. মমিন বলেন, সপ্তাহে তিনদিন ক্লিনিকে আমি রোগী দেখি, যাতায়াতের রাস্তাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, রাস্তাটা তুলে ফেলা ঠিক হয়নি। ওই গ্রামের বাসিন্দা, মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন সিরাজী (ইসমাইল খলিফা) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মমিন মসজিদকে পুঁজি করে আবুল কালাম আজাদ সরকারি অর্থ বরাদ্দ এনে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে।

এ ব্যাপারে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটা রাস্তা সরকারি নয়, আর সরকারি হলেও সেচ প্রকল্পের বিএডিসি ইঞ্জিনিয়ার রাজু সাহেব আমাকে রাস্তা ইট সরিয়ে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন। মমিন মসজিদকে পুঁজি করে বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে বরাদ্দ এনে নিয়মমাফিক কাজ করেননি, এমন অভিযোগের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে পিরোজপুর বিএডিসি  ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজু  বলেন, রাস্তার ইট তুলে ফেলার কথা না । এ ব্যাপারে  আমি কিছুই জানি না। বিষয়টি জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২ নং ধানীসাফা ইউনিয়নের প্রশাসক ও মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন্নেছা সুমী বলেন, এই রাস্তাটি আমি দিয়েছি ক্লিনিকে আসা জনসাধারণ ও রোগীদের জন্য। ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা তিনি নষ্ট করতে পারেন না, এই দায় তার নিতে হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত