ইরানে হামলায় চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, তোপ বিরোধীদের

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

ইরানে হামলা প্রসঙ্গে নতুন করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল ইরানে হামলার জন্য বদ্ধপরিকর ছিল এবং ইসরায়েলের ওই হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা তেহরানের পাল্টা হামলার শিকার হতো-এই আশঙ্কা থেকে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই ইরানে হামলা চালিয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) কংগ্রেসের এক রুদ্ধদ্বার শুনানিতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে এই ব্যাখ্যা দেন রুবিও। শুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, এটা অনেকটা স্পষ্ট ছিল যে ইরানে কেউ হামলা করলে সেটা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল বা অন্য যে কেউ করুক না কেন, তারা জবাব দিত এবং জবাবটা হতো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইসরায়েল যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে তারা আগেই অবগত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা জানতাম যে এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীগুলোর ওপর হামলা হবে। আমরা জানতাম যে তারা হামলা চালানোর আগে যদি আমরা তাদের ওপর হামলা না করি তাহলে আমরা বেশি হতাহতের শিকার হতে পারি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ভ্যান্সই ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন।

বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন। অপরদিকে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করা হলেও ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই যুদ্ধ নিয়ে তীব্র বিভক্তি দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিলেও ডেমোক্র্যাটরা এর তীব্র সমালোচনা করছেন। সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমার একে ‘ট্রাম্পের যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কোনো কৌশল নেই, কীভাবে যুদ্ধ শেষ হবে তারও কোনো পরিকল্পনা নেই। শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর অপর্যাপ্ত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন যুদ্ধে টেনে নেওয়া প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইরানিদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আসন্ন কোনো হুমকি ছিল না। হুমকি ছিল ইসরায়েলের প্রতি। যদি আমরা ইসরায়েলের প্রতি হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আসন্ন হুমকি হিসেবে দেখি, তাহলে আমরা একটি অজানা পরিস্থিতিতে পড়ে যাই।

ইরানে হামলার লক্ষ্য সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কয়েকটি লক্ষ্যের কথা বললেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও গতকাল কেবল দুটি লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন-ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করা। ট্রাম্প কীভাবে এই যুদ্ধ শেষ করতে চান তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও জানান মার্ক ওয়ার্নার। তিনি মনে করেন, এই বিষয়ে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের মুখোমুখি হওয়া উচিত।

এদিকে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। ওই প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা শেষ করতে বাধ্য করার আহ্বান জানানো হলেও প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত