মাসয়ালা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:১১ এএম

রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত। প্রত্যেক সুস্থ, প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুকিম ব্যক্তির জন্য রমজানের রোজা রাখা ফরজ। অনেকেই রোজা রেখে এমন কাজ করে ফেলেন, যা রোজাকে নষ্ট করে দেয়। তাই ভঙ্গের কারণসমূহ জেনে রাখা আবশ্যক। যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়, তা উল্লেখ করা হলো।

এক. ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা স্ত্রী সহবাস করলে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই (একাধারে দুই মাস রোজা রাখা) ওয়াজিব হয়। দুই. অনিচ্ছাকৃতভাবে অজু বা গোসলের পানি বা অন্য কোনো খাদ্যদ্রব্য গলার ভিতরে প্রবেশ করলে। তিন. কুলি করার সময় পেটের ভেতর পানি প্রবেশ করলে। চার. নাক কিংবা কানের ভেতর ওষুধ বা তেল জাতীয় তরল পদার্থ প্রবেশ করালে। পাঁচ. দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলা বা তার চেয়ে বড় খাদ্যকণাকে বের করে গিলে ফেললে। ছয়. স্বেচ্ছায় মুখ ভর্তি বমি করলে। সাত. বমি মুখের ভেতর আসার পর তা গিলে ফেললে। আট. ধূমপান করলে। নয়. রাত বাকি আছে ভেবে সুবেহ সাদিকের পর সাহরি খেলে। দশ. সূর্যাস্তের পূর্বে ইফতার করলে। (হিন্দিয়া)

রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণসমূহ

কোনো ইবাদত পালনের সময় মাকরুহ কাজ করা হলে ওই ইবাদতের সৌন্দর্য ও সওয়াবে কমতি ঘটে। যেহেতু রমজানের রোজা ফরজ ইবাদত, তাই যেসব কাজ করলে রোজা মাকরুহ হয়ে যাবে, তা জেনে রাখা জরুরি। যেন আমরা রোজার পরিপূর্ণ সওয়াব অর্জন করতে পারি। রোজা রেখে যেসব কাজ করলে রোজা মাকরুহ হয়, তা উল্লেখ করা হলো।

এক. মিথ্যা বলা, গিবত বা পরনিন্দা করা, গালি দেওয়া, অশ্লীল কথা বলা, কুদৃষ্টি, ঝগড়া-বিবাদ করা, অনর্থক গল্প-আড্ডা, কাউকে কষ্ট দেওয়া। দুই. রোজা রেখে বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছুর স্বাদ নেওয়া এবং কোনো কিছু দাঁত দিয়ে চিবানো। তিন. কোনো নারী-পুরুষের জন্য রোজা থেকে পরস্পরকে চুমু খাওয়া, আলিঙ্গন করা ও শরীর স্পর্শ করা মাকরুহ, যখন বীর্যপাত ও সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। একইভাবে ঠোঁটে চুমু খাওয়াও মাকরুহ। চাই সঙ্গম ও বীর্যপাতের ভয় থাকুক বা না থাকুক। চার. নাচ, গান, সিনেমা দেখা এবং তাতে মজে থাকা। পাঁচ. রোজা রেখে দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, কয়লা বা মাজন দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা। ছয়. মুখে গুল ব্যবহার করা মাকরুহ এবং থুতুর সঙ্গে গুল গলার ভেতর চলে গেলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। সাত. গরম ও পিপাসা হালকা করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি বেশি পানি ব্যবহার করা (হাত-মুখ ধোয়া ও কুলি করা ইত্যাদি)। আট. রোজা রেখে গড়গড়া করে কুলি করা এবং নাকের নরম ভাগের ওপরে পানি পৌঁছানো। কেননা এতে পেটের ভেতর পানি চলে যাওয়ার ভয় থাকে। নয়. মুখের ভেতর থুতু জমিয়ে তা গিলে ফেলা। (হিন্দয়া, রদ্দুল মুহতার)

মহান আল্লাহ আমাদের রোজা রেখে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন, যা রোজাকে নষ্ট করে দেয় এবং যার কারণে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়। এসব বিষয় খেয়াল রাখলে আশা করা যায়, মহান আল্লাহ আমাদের রোজার পরিপূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং এমন রোজা আমাদের পরকালের পাথেয় হবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে রোজার সওয়াব যথাযথভাবে অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

গ্রন্থনা : মো. আবদুর রহমান

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত