তথ্য সংরক্ষণের মাইক্রোসফটের নতুন উপায়

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:১৪ এএম

তথ্য সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি আবিষ্কারের কথা জানিয়েছে মার্কিন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফ। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ১০ হাজার বছর পর্যন্ত তথ্য  সংরক্ষণ করা যাবে। আজ যা ঘটছে, ১০ হাজার বছর পরও মিলবে তার বিবরণ। মাইক্রোসফটের মুখপাত্র জানিয়েছে, নতুন ধরনের একটি ডেটা স্টোরেজ সিস্টেম (তথ্য সংরক্ষিত রাখার পদ্ধতি) আবিষ্কার করেছে তারা, যাতে জমা থাকা তথ্য ১০ হাজার বছর বা তার পরেও দিব্যি পড়তে পারবে আগামী প্রজন্ম।

২১ শতকের ডিজিটাল যুগে দিন দিন জরুরি হয়ে পড়ছে তথ্য সংরক্ষণ। বর্তমানে সেগুলো জমা থাকছে ম্যাগনেটিক টেপ এবং হার্ড ড্রাইভে। কিন্তু বিশ্লেষকদের দাবি, এতে দীর্ঘ দিন তথ্য সংরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। মাত্র ১০ বছরের মধ্যে ম্যাগনেটিক টেপ এবং হার্ড ড্রাইভে থাকা তথ্য নষ্ট হতে পারে। এই সমস্যা টের পেতেই নতুন ধরনের ডেটা স্টোরেজ সিস্টেম নির্মাণে মরিয়া হয়ে ওঠে মাইক্রোসফ্ট। অবশেষে এ কাজে তারা সফর হলেন। বিষয়টি নিয়ে কেমব্রিজের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জৈবিক প্রকৌশলী (বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার) মার্ক বাথ জানা, ‘তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মার্কিন টেক জায়ান্টটির নতুন পদ্ধতি বেশ চিত্তাকর্ষক। এটা তথ্যের স্থায়ী সংরক্ষণাগার হিসাবে কাজ করতে পারবে, আগামী দিনে যা গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে।’

দ্যা ভার্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ডেটা স্টোরেজ সিস্টেম তৈরি করতে একটি উচ্চশক্তির লেজার ব্যবহার করেছে মাইক্রোসফ্ট। এর মাধ্যমে ওভেনঅয়্যারে ব্যবহৃত বোরোসিলিকেট কাচের একটি থ্রিডি অংশে তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এতে রাখা তথ্য মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে পড়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ওই মার্কিন টেক জায়ান্ট।

এ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘নেচার’ পত্রিকায় এই নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে মাইক্রোসফ্টের গবেষক দল। সেখানে বলা হয়েছে, ১২ সেন্টিমিটার চওড়া ও দুই মিলিমিটার পুরু কাচের ৪.৮ টেরাবাইট তথ্য সংরক্ষণ করার ক্ষমতা রয়েছে, যেটা প্রায় ২০ লাখ বইয়ের সমান।

মার্কিন জায়ান্টটির গবেষকদের দাবি, এই পদ্ধতিতে পারদ ২৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠলে ১০ হাজার বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে তথ্য। ঘরের তাপমাত্রায় যেটা আরও বেশি দিন ঠিক থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, হার্ড ড্রাইভ ফাইলের থেকেও এতে তথ্য রাখা অনেক বেশি নিরাপদ বলে মনে করেন গবেষক দলের অন্যতম সদস্য রিচার্ড ব্ল্যাক।

সংশ্লিষ্ট পদ্ধতিতে অবশ্য একটা অসুবিধা রয়েছে। এতে সংরক্ষিত থাকা তথ্য যে কেউ পড়তে পারবেন, এমনটা নয়। তার জন্য বিশেষজ্ঞ হার্ডঅয়্যারের প্রয়োজন হবে। তারপরও কাচে তথ্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা আগামী দিনে ডেটা স্টোরেজের বিকল্প হতে চলেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত