দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান। এ সময় দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ উপস্থিত ছিলেন।

ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা তিনজন এ কমিশনের তিন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের পদত্যাগের বিশেষ কোনো কারণ নেই। আমরা অনুভব করেছি, পরিবর্তনের পর নির্বাচিত যে নতুন সরকার এসেছে, সেই সরকারেরও একটি প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার তার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিশ্চয়ই আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন গঠন করবেন। তাতে দুর্নীতি দমন কমিশন যেমন ভালো হবে, আমি বিশ্বাস করি রাষ্ট্রেরও তেমন উপকার হবে।’

ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কাজ শুরু করি। আমি ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী ১১ ডিসেম্বর এবং কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ ১৫ ডিসেম্বর যোগদান করেন। এ সময়টুকু আমরা আমাদের সাধ্যমতো দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আমাদের কাজের বিচার আপনারাই করবেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের এতদিন নখ-দাঁত ছিল কি ছিল না, সেটার বিচার করার মালিক আপনারা। আমরা যে সময় দায়িত্বে ছিলাম, সে সময় দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।’

আপনাদের পদত্যাগের কারণে একটি বার্তা যাচ্ছে যে, রাজনৈতিক সরকার যেভাবে চাইবে দুদক সেভাবে চলবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা নতুন সরকার এসেছে, তাদের ম্যানিফেস্টো আছে, প্রত্যাশা আছে। সরকার তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করবে। সেখানে ব্যত্যয় কিছুই দেখছি না।’

কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী বলেন, ‘আইন অনুযায়ী পদত্যাগের এক মাস আগে রাষ্ট্রপতিকে নোটিস করতে হয়। আমি সেই নোটিস করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগ জমা দিয়েছি।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদকের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়। তার আগপর্যন্ত তিনি চুক্তিতে সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ড. মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন প্রায় ১৫ মাস দায়িত্ব পালন করে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৪তম দিনে তারা পদত্যাগ করলেন।

বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। এর প্রথম চেয়ারম্যান হন বিচারপতি সুলতান হোসেন খান। আর কমিশনার ছিলেন ঢাবির সাবেক ভিসি মনিরুজ্জামান মিঞা ও অডিটর মনিরুদ্দিন। এরপর ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৭ সালে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সরিয়ে দিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং জেলা জজ হাবিবুর রহমান ও অডিট বিভাগের মঞ্জুর মান্নানকে কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। এই কমিশন ২৭ মাস দায়িত্ব পালন করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হাসান মশহুদ চৌধুরী পদত্যাগ করেন। এরপর গোলাম রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিশন যাত্রা শুরু হয়। এরপর বদিউজ্জামান ও ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে। আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় থাকাকালে তিনটি কমিশন তাদের পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। বাকি চারটি কমিশন ১৫ মাস থেকে ৪০ মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত