ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। দুটি ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জানা গেছে, গত শনিবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার পরিবারের সদস্য এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। রবিবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
শনিবারের হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর এখন মুজতবা খামেনিকেই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির দ্বিতীয় সন্তান মুজতবা খামেনি ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেন। তিনি মধ্যম সারির আলেম হিসেবে পরিচিত হলেও দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই তার বিশেষ প্রভাব রয়েছে। কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত এই ধর্মীয় নেতা সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ট সহযোগী হিসেবেও ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মুজতবা খামেনি এখনো জীবিত আছেন। সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার সময় তিনি তেহরানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি কোথায় ছিলেন এবং কিভাবে হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সূত্রটি।
এ ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে যাকেই নির্বাচিত করা হোক না কেন, তাকেও হত্যা করা হবে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্ব দিয়ে আসা এই শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করতে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিল ওয়াশিংটন।
