চাঁদার ৫ লাখ টাকা না পেয়ে খোয়া-রড নিয়ে গেলেন কৃষকদল নেতা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঠিকাদারি কাজের সাপ্লাইয়ারের কাজ বাগিয়ে নিতে না পেরে এক জাসাস নেতার কাছে পাঁচ লাখ টাকা টাকা চাঁদা দাবি করেছেন কৃষকদল নেতা। পরে জাসাস নেতা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার লোকজন দিয়ে ইটের খোয়া ও রড ভর্তি ট্রাক লুট করে নিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাফারি পার্কের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজটি করছে। তিনি প্রতিষ্ঠানে সাপ্লাইয়ার হিসাবে নির্মাণ সামগ্রী সবরাহ করছে জাসাস নেতা হাসিবুল হাসান সরকার হাসেম। অভিযুক্ত কৃষকদল নেতার নাম হুমায়ুন কবির। তিনি শ্রীপুর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব। তিনি মাওনা ইউনিয়নের সাফারি পার্ক সংলগ্ন ইন্দ্রপুর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে।

অপরদিকে অভিযোগকারী জাসাস নেতার নাম হাসিবুল হাসান সরকার। তিনি শ্রীপুর উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব। তিনি গাজীপুর সাফারি পার্কের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ইট, বালি, রড সাপ্লাই করে থাকেন। প্রায় দুই মাস ধরেই তিনি এ কাজ করে আসছেন। সম্প্রতি কৃষকদল নেতা হুমায়ুন কবির জোর করে এই কাজের সাপ্লাইয়ার হতে চান। এতে জাসাস নেতা হাসিব সরকার রাজি না হলে আলাদা করে কৃষকদলের সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

অভিযোগকারী জাসাসের সদস্য সচিব হাসিবুল হাসান সরকার বলেন, আমি সরকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে সাফারি পার্কের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য যাবতীয় নির্মাণ সামগ্রী সাপ্লাই করে আসছি। চার দিন আগে স্থানীয় কৃষক দলের সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির ও তার লোকজন এসে কাজে বাধা দেয়। তারা এ কাজটি করবে আর আমাকে এ সাপ্লাই কাজটি ছেড়ে দিতে বলেন। পরে আমি তাতে রাজি হইনি। ইতিমধ্যে আমার কয়েক লক্ষ টাকা এখানে ইনভেস্ট করা হয়েছে। ফলে এ কাজ ছাড়া কোনও মতেই সম্ভব না। এতে হুমায়ুন করিব ও তার লোকজন মিলে আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাতেও রাজি হইনি। পরে সে নানাভাবে হুমকি দেয়। এক সময় জোর আমার ট্রাক ভর্তি ইটের খোয়া ও চার টন রড রাস্তা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ট্রাকে সাড়ে চার শ ফিট ইটের খোয়া ছিল। অন্তত সাড়ে তিন লাখ টাকার রড ছিল। এ ঘটনায় আমি আমার দলীয় অভিভাবকদের কাছে জানিয়েছি। পরে থানায় অভিযোগ করেছি।

সরকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হাসান বলেন, একটি পক্ষ এক দুই দিন আমাদের সাইটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। শুনেছি ট্রাক ভর্তি খোয়া রড লুটের ঘটনা। তবে কারা করেছে তা আমরা জানি না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষক দলের সদস্য সচিব হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর মডেল থানার এসআই অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি পক্ষ কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। ইটের খোয়া একটি বাড়ির পাশে ফেলে রাখা হয়েছে তা আমরা দেখেছি। দুই পক্ষের মাঝে ধাক্কাধাক্কি হওয়ার ব্যাপরটিও এলাকাবাসী জানিয়েছে।

গাজীপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয় আমি শুনেছি। ধারণা করছি দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন কোনও দ্বন্দ্ব আছে। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তার (হুমায়ুন কবির) বিরুদ্ধে দলীয় ও অইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অপরাধীদের ছাড় নাই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত