খুলনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শ্রমিক নেতাকে হত্যা

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

খুলনায় পূর্ব শত্রুতা ও রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে তিনটি কিলার গ্রুপ অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে গুলি করার জন্য ছিল একটি গ্রুপ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর জন্য ছিল একটি গ্রুপ ও কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের নিরপদে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ছিল আরেকটি গ্রুপ। পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ জাভেদ পাটোয়ারী নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে কিলিং মিশন শেষ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত জনতা ও পুলিশ অশোক ঘোষ নামে এক সন্ত্রাসীকে বিদেশি অস্ত্রসহ আটক করে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মামলা দায়ের না হলেও পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

নিহত মাসুম বিল্লাহর পারিবারিক সূত্র জানায়, বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে স্ত্রী ও ভাতিজার মেয়েকে নিয়ে মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাড়ি থেকে খুলনায় আসেন। প্রথমে তারা খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে একজন রোগী দেখতে যান। সেখান থেকে বিকালে তারা নিউ মার্কেটে কেনাকাটা শেষে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে ইফতার করেন। ইফতার শেষে নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ে কেনাকাটার জন্য গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে মাসুম বিল্লাহ বাটার শোরুমে প্রবেশ করেন। তখন পেছন থেকে কোপানো গ্রুপের সদস্যরা প্রথমে তার ডান পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বাটার শোরুমে লুটিয়ে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরাও তখন প্রকাশ্য আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মাসুম বিল্লাহকে গলায় ও পিঠে গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুম বিল্লাহকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মাসুম বিল্লাহর চাচা মহিউদ্দীন শেখ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বলেন, মাসুম বিল্লাহ রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। এই মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। সেই কারণে মাসুম বিল্লাহ ফের সভাপতি পদে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণেইে প্রতিপক্ষ গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে তাকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করিয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, পুলিশ সঠিক কারণ তদন্ত করে উন্মোচন করে আসামিদের গ্রেপ্তার করবেন।

এ প্রসঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (দক্ষিণ ) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের হিসাবে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা মাসুম বিল্লাহকে হত্যা করিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে তিনটি কিলার গ্রুপ অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে গুলি করার জন্য ছিল একটি গ্রুপ,ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর জন্য ছিল একটি গ্রুপ ও আরেকটি গ্রুপ ছিল কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের নিরপদে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। এরমধ্যে গুলি করার গ্রুপে ছিল ৮জন। এদের মধ্যে দুইজন ছিল মূল কিলার। এই কিলিং মিশন শেষ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত জনতা ও পুলিশ  অশোক ঘোষ নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক বিদেশি অস্ত্রসহ আটক করে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার জাভেদ পাটোয়ারী নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রধারীসহ সাত-আটজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় অস্ত্র আইনে খুলনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ভিকটিমের স্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত