বগুড়ায় প্রথমবার গবাদিপশুর বীমার টাকা পেলেন সালমা

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

বগুড়ায় প্রথমবারের মতো গবাদিপশুর বীমা করে ক্ষতিপূরণ পেলেন এক ক্ষুদ্র খামারি। নন্দীগ্রাম উপজেলার দোলা সিংড়া গ্রামের উম্মে সালমা নিজের পালিত গরু মারা যাওয়ার পর বীমার আওতায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৭ হাজার টাকা পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলার দোলা সিংড়া গ্রামে গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে বীমার টাকা তুলে দেওয়া হয়। 

জানা যায়, উম্মে সালমা আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য গবাদিপশু পালন শুরু করেন এবং পরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি (বগুড়া-৪ অঞ্চল)-এর সদস্য হন। সেখানে তিনি তার পালিত গরুর নিরাপত্তার জন্য ৩০ হাজার টাকার বীমা করেন। একটি কিস্তি পরিশোধ করার পর গত ৯ জানুয়ারি হঠাৎ গরুটি মারা যায়।

বীমার সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই গরুটি মারা যাওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েন। পরে বিষয়টি ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্তৃপক্ষকে জানালে যাচাই-বাছাই শেষে বীমা নীতিমালা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তার হাতে ২৭ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্পনা রানী রায়।

ব্র্যাকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নর্থ ওয়েস্ট ডিভিশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. গোলাম রব্বানী, লাইফস্টক ইন্স্যুরেন্সের ম্যানেজার তাসভীর আহমেদ, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক নিলুফার ইয়াসমিন কেয়া, ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর বাবলী সুরাইয়াসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, গবাদিপশু বীমা কর্মসূচি খামারিদের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। ক্ষুদ্র খামারিরা গবাদিপশু মারা গেলে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং বীমার সুবিধায় নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, বগুড়া জেলায় প্রথমবারের মতো গরুর বীমা পরিশোধের এ ঘটনা ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত