যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তার সপ্তম দিনে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, সামনে হামলার মাত্রা আরও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শুক্রবার (৬ মার্চ) জানায়, তারা তেহরানে যুদ্ধের নতুন ধাপে আরেক দফা হামলা শুরু করেছে। এসব হামলায় মূলত ইরানের সরকারের বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের বি-টু স্পিরিট বোমারু বিমান ইরানের গভীরে মাটির নিচে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে ডজনখানেক শক্তিশালী ‘পেনিট্রেটর’ বোমা নিক্ষেপ করেছে।
শনিবার থেকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে রাজধানী তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে পারান্ড শহরে দুটি স্কুল ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের মতামত থাকার দাবি জানান।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
এদিকে, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ হয়।’
তিনি বলেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, যিনি যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলের এক বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন, তার পরিবর্তে এমন একজন বা একাধিক মহান ও গ্রহণযোগ্য নেতাকে বেছে নিতে হবে, যাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতামত থাকবে।’
তিনি আরও জানান, এই শর্তগুলো পূরণ হলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের অসাধারণ ও সাহসী মিত্র ও অংশীদাররা ইরান ও তার অর্থনীতি পুনর্গঠনে নিরলসভাবে কাজ করবে। তার ভাষায়, ‘ইরানকে ধ্বংসের কিনারা থেকে ফিরিয়ে এনে অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়েও বড়, ভালো ও শক্তিশালী করে তোলা হবে।’
শেষে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের ভবিষ্যৎ মহান হবে। ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন (MIGA)!’ যেটি তার বহুল ব্যবহৃত স্লোগান মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (MAGA)–এর ইরানি সংস্করণ।