শিশুরাও রিউম্যাটিক বা বাতজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের যে শাখায় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের বাত, জয়েন্টের ব্যথা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ত্রুটিজনিত (অটোইমিউন) প্রদাহজনক রোগের নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়, তাকে পেডিয়াট্রিক রিউমাটোলজি (Pediatric Rheumatology) বলা হয়।
পেডিয়াট্রিক রিউমাটোলজির মধ্যে অন্যতম হলো জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস (JIA), লুপাস (SLE), কাওয়াসাকি ডিজিজ এবং ডার্মাটোমায়োসাইটিস, রক্ত নালির প্রদাহ ইত্যাদি। এসব রোগের সঠিক ও নির্দিষ্ট কারণ এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব রোগ কোনো একটি একক কারণে হয় না। শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার কারণে ঘটে থাকে। এই রোগগুলোতে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের সুস্থ কোষ, জয়েন্ট, পেশি বা বিভিন্ন অঙ্গকে আক্রমণ করে বসে।
অভিভাবকদের জানা দরকার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশুর জোড়া শক্ত হয়ে থাকা বা স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না পারা।
গিরা ফোলা, লাল হওয়া বা স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হওয়া।
কোনো আঘাত না পাওয়া সত্ত্বেও শিশু হঠাৎ খুঁড়িয়ে হাঁটলে।
দীর্ঘদিন ধরে একটানা বা থেমে থেমে উচ্চমাত্রার জ্বর থাকা, যার সঠিক কারণ সাধারণ পরীক্ষায় মিলছে না। মুখে র্যাশ কিংবা শরীরের বিভিন্ন স্থানে লালচে ছোপ পড়া।
পেডিয়াট্রিক রিউমাটোলজির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রোগ শনাক্তকরণে বিলম্ব। সাধারণ ব্যথানাশক খেয়ে সাময়িক আরাম মিললেও রোগ ভেতরের অঙ্গ বা জয়েন্টের স্থায়ী ক্ষতি করে ফেলে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিজিজ-মডিফাইং অ্যান্টি-রিউম্যাটিক ড্রাগস (DMARDs) এবং বায়োলজিক্যাল এজেন্টের মতো অত্যন্ত কার্যকর ওষুধ রয়েছে, যা সঠিক সময়ে শুরু করলে শিশু পুরোপুরি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। শিশুর জয়েন্টে অহেতুক ব্যথা বা হাঁটাচলায় সমস্যাকে কেবল ‘বাড়ন্ত বয়সের ব্যথা’ ভেবে অবহেলা করবেন না। লক্ষণ প্রকাশ পেলে দ্রুত একজন শিশু রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসাই পারে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎকে পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে।