যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

রোগীদের ট্রলি ঠেলে টাকা আদায় বন্ধের সিদ্ধান্ত, ক্ষুব্ধ ‘স্বেচ্ছাসেবীরা’

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের ট্রলি ঠেলার বিনিময়ে স্বজনদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন ‘স্বেচ্ছাসেবী’ নামধারীরা। টাকা দেওয়া-না দেওয়া নিয়ে রোগীর স্বজন ও স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হয়। বাধ্য হয়ে এ ধরনের টাকা নেওয়া বন্ধের নির্দেশ দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার (৭ মার্চ) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়েতের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১০০ জন ‘স্বেচ্ছাসেবী’ নামধারী কর্মী রাগীদের ট্রলি ঠেলে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে নেওয়ার কাজ করে আসছিলেন। হাসপাতাল থেকে তাদের কোনও বেতন দেওয়া হয় না। ফলে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে তারা ৫০ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে থাকেন। কিন্তু শনিবার সকালে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়েত কঠোরভাবে জানিয়ে দেন, রোগীদের ট্রলি ঠেলে স্বজনদের কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা নেওয়া যাবে না।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবক মফিজুল হক সাগরের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন কর্মী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা দাবি জানান হয় বকশিস নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখতে হবে, অথবা হাসপাতালের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।

অবস্থান কর্মসূচির বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক নেতা মফিজুল হক সাগর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন বেতন ছাড়াই রোগীদের ট্রলি ঠেলে টাকা নিয়ে থাকি। তা দিয়েই সংসার চলে। এখন এই টাকা নেওয়া বন্ধ করে দিলে আমরা সপরিবারে না খেয়ে মরব। হয় আমাদের টাকা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক, না হয় ভাতার ব্যবস্থা করা হোক।
তিনি আরো বলেন, জোরপূর্বক টাকা আদায়ের কথা সত্য নয়।

এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়েত বলেন, হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি বন্ধে টাকা নেওয়া যাবে না এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। তবে এটি সত্য যে আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল বা সাপোর্টিং স্টাফের অভাব রয়েছে। আমরা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত