মাসয়ালা

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১২:১৯ এএম

রোজায় পারফিউম ও আতর ব্যবহারের বিধান

সুগন্ধি ব্যবহার কলা সুন্নত। রোজা অবস্থায় আতর বা পারফিউম ব্যবহার করা জায়েজ আছে। নবীজি (সা.) সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং কেউ সুগন্ধি উপহার দিলে তা সাদরে গ্রহণ করতেন। সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি ‘আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ’ জানিয়েছে, রোজা অবস্থায় শরীরে বা কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হয় না। তবে আগরবাতি বা ধোঁয়াযুক্ত সুগন্ধি সরাসরি নাকের কাছে নিয়ে গভীর শ্বাস টেনে শোঁকা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ ধোঁয়ার কণা গলার ভেতরে পৌঁছালে রোজা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। (ফতোয়া লাজনাতিদ্দায়িমা ১০/২৭১)

অনেকে মনে করেন, পারফিউমে অ্যালকোহল থাকলে তা নাপাক হয়ে যায় এবং তা মেখে নামাজ পড়া যাবে না। তবে ফিকহবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিষয়টি সব ক্ষেত্রে এক রকম নয়। হানাফি মাজহাবের ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতানুযায়ী, যদি অ্যালকোহল আঙুর বা খেজুর থেকে প্রস্তুত না হয়, তাহলে তা সুগন্ধি বা ওষুধের মতো বৈধ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। আধুনিক শিল্পে ব্যবহৃত অধিকাংশ অ্যালকোহল শস্য বা রাসায়নিক উপাদান থেকে তৈরি হওয়ায় অনেক আলেম একে নাপাক মনে করেন না। ফলে এ জাতীয় পারফিউম ব্যবহার করলে কাপড় নাপাক হয় না এবং ওই কাপড়ে নামাজ পড়াও বৈধ। (রদ্দুল মুখতার ৩/৩৬৫)

রোজায় সুরমা ও আইড্রপ ব্যবহারের বিধান

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, চোখে সুরমা বা আইড্রপ ব্যবহার করলে রোজা ভাঙে না। চোখের সঙ্গে পাকস্থলীর সরাসরি কোনো সংযোগ না থাকায় সুরমার স্বাদ গলায় অনুভূত হলেও এটি রোজা নষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য হয় না। (হিন্দিয়া ১/২০৩)

রোজা রেখে নখ-চুল কাটার বিধান

শরীরের পশম বা নখ কাটার সঙ্গে রোজা ভঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্ভরযোগ্য ফিকহ শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রোজা অবস্থায় নখ কাটা বা চুল ছাঁটা সম্পূর্ণ বৈধ। এটি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অংশ, যা ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়। (হিন্দয়া ১/২০১)

ভুলে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করার বিধান

মেঘলা আকাশ বা ভুল আজান শোনার কারণে অনেক সময় কেউ সূর্যাস্তের আগে ইফতার করে ফেলতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে শরিয়তের বিধান হলো, হানাফি মাজহাবসহ অধিকাংশ ফকিহদের মতে, কেউ যদি সূর্যাস্ত হয়ে গেছে মনে করে ভুলবশত ইফতার করে ফেলেন, তাহলে তার ওই দিনের রোজা শুদ্ধ হবে না। কারণ রোজার নির্ধারিত সময় তখনো পূর্ণ হয়নি। যদিও এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল, তবুও রোজাটি বাতিল গণ্য হবে।

এ ক্ষেত্রে শুধু একটি রোজা কাজা করা ওয়াজিব। কাফফারা দিতে হবে না। কারণ কাফফারা তখনই প্রযোজ্য হয়, যখন কেউ জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের রোজা ভঙ্গ করে। ভুলবশত হলে গুনাহ হবে না, তবে কাজা আদায় করতে হবে। (রদ্দুল মুখতার ৩/৩৭৩)

গ্রন্থনা : আইনাল হক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত