জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারী শক্তি’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মনিরা শারমিন। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়। গতকাল রবিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন এনসিপি আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে ছিলেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বড় একটি স্টেকহোল্ডার নারীরা। সারা দেশের জুলাইয়ের যে সব কণ্ঠস্বর, নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গিয়েছে আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। জাতীয় নারীশক্তি সেটা চেষ্টা করবে। তারা রাজনীতি করুক বা না করুক, দেশ পরিবর্তনের মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সেই জায়গাটায় তাদের কণ্ঠগুলো, তাদের কথাগুলো যাতে শুনি এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তা হলোÑ জুলাই আন্দোলনের সেই নারীরা এখন কোথায়? যারা রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে ছিলেন, পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে তাদের সেই হারে দেখা যাচ্ছে না কেন? আন্দোলনের নেতৃত্ব হিসেবে এর দায় আমাদের ওপর কতটুকু বর্তায়, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এটি বাস্তবতা যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব নারী রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তাদের সবাই পরবর্তী সময়ে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেননি। বড় একটি অংশকে আমরা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে হারিয়ে ফেলেছি। তবে আমরা যখন জুলাই পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি, তখন আন্দোলনকারী সেই সব নারী ও বোনদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরিবর্তনের গভীর আকাক্সক্ষা এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও নানা পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার কারণে তারা তা পেরে ওঠেননি।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারীদের লক্ষ্য করে অনলাইন বা সাইবার বুলিংয়ের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যে সব নারী রাজনৈতিকভাবে নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালো করার চেষ্টা করছেন, তাদের এমনভাবে টার্গেট করা হচ্ছে যে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।