মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ৯ মার্চ থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিশেষ নির্দেশনায় দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আগাম ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা জরুরি। এ কারণে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জ্বালানি সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষে আজ (৯ মার্চ) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় পর্যন্ত সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ছুটি চলাকালে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় দিনের বেলায় কৃত্রিম আলোর পরিবর্তে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করা এবং জানালা-দরজা খুলে রেখে আলো প্রবেশের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যবহৃত আলোর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা, অপ্রয়োজনীয় লাইট ব্যবহার বন্ধ রাখা এবং অফিস চলাকালে অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আলোকসজ্জা পরিহার, গাড়ির ব্যবহার সীমিত রাখা এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বন্ধ থাকবে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কোচিং সেন্টার : পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সব বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বিদ্যালয় এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। গতকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তারের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি সরকার ঘোষিত ঈদের ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পবিত্র রমজান, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে জনভোগান্তি ও যানজট নিরসন এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কোচিং সেন্টার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সরকার মনে করছে, এই ছুটির ফলে বড় শহরগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। তবে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোর পূর্বঘোষিত আবশ্যিক পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হবে।