ডোনেশন সেবা: বিকাশ ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে জাকাত ও অনুদান দেয়াকে সহজ করেছে 

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

রমজান মাসে মানুষ তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে দান-সদকা ও জাকাত প্রদান করে থাকেন। সরাসরি অনুদান প্রদানের পাশাপাশি এখন বড় সংখ্যক মানুষ নির্ভর করছেন ডিজিটাল আর্থিক সেবার উপর। প্রযুক্তির সহায়তায় দাতার হাত থেকে উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে সহায়তার অর্থ-দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ উপায়ে। দান-অনুদান কিংবা জাকাতের টাকা সঠিক বন্টনের এই বিস্তারে ভূমিকা রাখছে দেশের বৃহত্তম মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। বিকাশের মাধ্যমে এখন দেশজুড়ে কাজ করা ৫০টিরও বেশি দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে সরাসরি জাকাত ও অনুদান পাঠানো যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও জাকাত ও অনুদান পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।

বছরজুড়েই অনুদান দেওয়ার সুযোগ থাকলেও রমজান মাসে এই সেবার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। বিকাশ অ্যাপের ‘ডোনেশন’ আইকনে ক্লিক করে পছন্দের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, নাম-ইমেইল ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখ করে সাবমিট-এভাবেই কয়েক ধাপে সম্পন্ন করা যায় অনুদান। দাতা চাইলে ‘পরিচয় দিতে অনিচ্ছুক’ অপশন বেছে নিয়ে গোপনীয়তাও বজায় রাখতে পারেন। অনুদান সম্পন্ন হলে তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্র পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ‘আরও জানুন’ অংশে ক্লিক করার সুবিধাও রয়েছে।

ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন। শহরে ব্যস্ত জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া ইমরান হোসেনের প্রতিবছর রমজানে জাকাতের টাকা বন্টনে অসুবিধায় পড়তে হয়। তার মতে, আমি ঢাকায় থাকি। প্রতিবছর এই মাস এলে আমাকে জাকাতের টাকা দেওয়ার জন্য মানুষ খুঁজতে হয়। ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় এটা একটা বাড়তি কাজ হয়ে উঠে। তবে গত দুই বছর বেশ আরাম হয়েছে। বিকাশ-এর মাধ্যমে আমি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাকাতের টাকাটা পাঠিয়ে দেই। এতে দুইটা সুবিধা-সঠিক জায়গায়, সঠিক মানুষকে দিতে পারছি এবং আমাকে এটার জন্য বাড়তি কষ্ট করতে হচ্ছে না। সত্যি বলতে, প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে। 
দীর্ঘ দিন প্রবাস থেকে ফেরা সায়রার দেশে তেমন চেনা জানা নেই। তার ভাষায়, এটা একটা রিলিফ। গতবছর আমি আমার জাকাত ও কিছু অনুদান বিকাশ থেকে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে খুব সহজেই দিয়ে দিতে পেরেছি। ডিজিটাল এই পদ্ধতি আমার অনুদান প্রদানকে একদম সহজ করে দিয়েছে।

বিকাশ-এ ডোনেশন, জাকাত দেয়া যায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশুনা, অ্যাপ্যায়ন কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে সপ্তাহের প্রতিদিন বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ, রমজানে সারামাসজুড়ে ইফতার, যাকাতের টাকায় মানুষকে স্বাবলম্বী করাসহ নানান সামাজিক করে থাকে। তার মতে, মানুষ চাইলে সরাসরি আমাদের অফিসে এসে অনুদান দিতে পারেন। তবে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অনুদান সংগ্রহকে গতিশীল করে দিয়েছে। এখন বিকাশের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ আমাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষের জন্য অনুদান প্রদান করছে।

বিকাশ অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইট থেকে যেসব প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেয়া যায়
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন, ডু-নেশন ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, ফ্রেন্ডশিপ, ব্র্যাক, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, টিএমএসএস, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, একশনএইড, আল মারকাজুল ইসলামী, চট্টগ্রাম মা-শিশু  ও জেনারেল হাসপাতাল, এসো সবাই, ফুড ফর অল-খুকুমনি ফাউন্ডেশন, হিউম্যান এইড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন (জাকাত), আইসিডিডিআরবি, জাগো ফাউন্ডেশন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, মজার ইশকুল, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন, প্রথম আলো ট্রাস্ট, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, রোগী কল্যাণ সমিতি (জাকাত), আমরা পরোপকারী পরিবার, সাজিদা ফাউন্ডেশন, শক্তি ফাউন্ডেশন, এসওএস চিলড্রেন ভিলেজ বাংলাদেশ, তাসাউফ ফাউন্ডেশন, উৎস বাংলাদেশ, ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-এসব প্রতিষ্ঠানে সহজেই অনুদান দিতে পারছেন মানুষ। বিকাশের মাধ্যমে ডোনেশনের বিস্তারিত জানতে পারেন এই লিংকে- https://www.bkash.com/products-services/donation

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত