পল্লীগীতি গাইলেন সাবিনা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ এএম

দেশের সংগীতাকাশের উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম সাবিনা ইয়াসমিন। জীবন্ত এই কিংবদন্তিকে গানের পাখি এমনকি প্লে-ব্যাক সম্রাজ্ঞী বলেও ডাকা হয়। এখনো তার মধুমাখা সুরেলা কণ্ঠ মুগ্ধ করে রাখে শ্রোতাদের। আধুনিক, দেশাত্মবোধক, প্লে-ব্যাক সব ঘরানাতেই যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ের গভীরে স্থায়ী হয়ে আছে তার সুরের জাদুমাখা গান। একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নন্দিত এই কণ্ঠশিল্পী ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ছয়বার বাচসাস পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। মাঝখানে অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ এক বছর সব ধরনের গান গাওয়া থেকে দূরে ছিলেন এই গায়িকা। তবে গত বছরের শুরু থেকে একটু একটু গান গাইতে শুরু করেন তিনি। এমনকি দেশের বাইরেও স্টেজ শো করতে দেখা গেছে তাকে।

নন্দিত এই শিল্পীকে নিয়ে এবার চ্যানেল আইতে প্রচার শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোক সংগীতের আসর ‘আই ফোব ফিভার’। সংগীতশিল্পী জাহাঙ্গীর সাঈদের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পল্লীগীতি গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন। তাও একটি নয়, একসঙ্গে পাঁচটি পল্লীগীতিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। গানগুলো হলো ‘এই যে দুনিয়া কীসেরও লাগিয়া’, ‘মাটিরও পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে’, ‘ও মুই না শোন না শোন তোর বৈদেশিয়া’, ‘আমি কেমন করে পত্র লিখিরে’ ও ‘সোনারও বরণী কন্যা সাজে যেন মেঘ কালো সাজিল রে’।

 এই আয়োজনে ১২জন যন্ত্রীশিল্পী তাদের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে প্রতিটি গানকে করে তুলেছেন প্রাণবন্ত। যন্ত্রীশিল্পীরা হলেন তবলায় চন্দন দত্ত, গিটারে মনোয়োর হোসেন টুটুল, প্যাড-এ আলমগীর হোসেন, বেহালায় মেহেদী, কি-বোর্ডে অন্তর, বাঁশিতে কামরুল, সেক্সোফোনে পাভেল, পারকেশনে জিকো, ঢোলে নয়ন-মুস্তাফিজ এবং হারমোনিয়ামে রুবেল, মেন্ডোলিন।

এ রকম এক আয়োজন এবং প্রথমবার পল্লীগীতি গাওয়া প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘সিনেমাতে এর আগে আমি পল্লীগীতি, ফোক গান গেয়েছি। তবে কোনো অনুষ্ঠানে বিশেষত জাহাঙ্গীর সাঈদের পরিচালনায় আই ফোক ফিভার-এ এবারই প্রথম এত পল্লীগীতি একসঙ্গে গাওয়া। খুবই ভালো লেগেছে এমন চমৎকার আয়োজন। আমি প্রথমেই এ জন্য ধন্যবাদ দিতে চাই জাহাঙ্গীর সাঈদকে। কারণ তিনিই আমাকে প্রথম এমন পরিকল্পনার কথা প্রথম বলেছিলেন। আমাকে বলার পর আমিও সম্মতি জানিয়ে তাকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করি। অবশ্যই ধন্যবাদ চ্যানেল আইকে। এছাড়াও ধন্যবাদ জানাচ্ছি সব মিউজিয়ানদের খুব সুন্দরভাবে প্রত্যেকটি গানে তাদের বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গানগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য। আশা করছি প্রত্যেকটি গানই শ্রোতা দর্শকের ভালোলাগবে।’

অনুষ্ঠানের পরিচালক ও পরিকল্পক জাহাঙ্গীর সাঈদ বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়র সব শিল্পীর প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ ভীষণ আন্তরিকতা নিয়ে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করার জন্য। অনুষ্ঠানটি প্রচারের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এডিটিং শেষে ফরিদুর রেজা সাগর ভাই সিদ্ধান্ত জানালেই প্রচার শুরু হবে চ্যানেল আই ও চ্যানেল আইয়ের ইউটিউব চ্যানেলে।’ ওকে//সুখেন

 

একসঙ্গে নাচলেন তমা ও হিমি

বিনোদন প্রতিবেদক

ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি সবসময়ই নিত্যনতুন ভাবনা নিয়ে হাজির হয় দর্শকের মাঝে। বিশেষ করে ঈদ ইত্যাদির বর্ণাঢ্য আয়োজনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠে মানুষের মন। লাখ-কোটি মানুষ যেমন অপেক্ষা করে ঈদের জন্য, তেমনি অপেক্ষা করে ইত্যাদির জন্যও। যে কারণে অনেক দর্শকই বলেন, ‘ইত্যাদি না দেখলে যেন ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে না’। দিন যতই যাচ্ছে ইত্যাদি যেন আরও বেশি সৃজনশীল, প্রাণবন্ত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এর কারণ ইত্যাদির প্রাণপুরুষ হানিফ সংকেত। যিনি একাধারে এই অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক, পরিচালক, গ্রন্থক, চিন্তক ও পরিচালক। ঈদের বিশেষ ইত্যাদির একটি অন্যতম আকর্ষণ বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় মনোমুগ্ধকর একটি নৃত্য। আর ইত্যাদির নাচ মানেই বর্ণাঢ্য আয়োজন, বাড়তি আকর্ষণ এবং ভিন্নমাত্রা। প্রতিবারই চেষ্টা করা হয় নাচের মিউজিক, বিষয়, চিত্রায়ণে বৈচিত্র্য আনতে। হানিফ সংকেত এবারের ইত্যাদিতেও একটি ভিন্ন আঙ্গিকের নাচের আয়োজন করেছেন। আর এই নাচটিতে অংশগ্রহণ করেছেন দুই ভুবনের দুজন, জনপ্রিয় অভিনয় তারকা। চলচ্চিত্র তারকা তমা মির্জা ও টিভি তারকা জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। তাদের সঙ্গে রয়েছে একদল নৃত্যশিল্পী। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।

ইত্যাদির ঈদ অনুষ্ঠানের নাচটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে করা হয়েছে। ফাগুন অডিও ভিশন জানায়, সবসময় যে ধরনের নাচ এবং নাচের মিউজিক শুনে দর্শকরা অভ্যস্ত ইত্যাদির নাচগুলোকে তার চাইতে একটু ব্যতিক্রমী করতে চেষ্টা করা হয়। তৈরি করা হয় নতুন মিউজিক। নাচটিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য শিল্পীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। নিয়মিত মহড়া দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী সবাই ছিলেন নাচটির ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। এ ধরনের নতুন নতুন বিষয়ে নৃত্য পরিবেশন করতে পেরে শিল্পীরাও আনন্দিত।

অনুষ্ঠানটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাগুন-অডিও ভিশন জানায়, নৃত্যশিল্পীরাও নেচেছেন দুর্দান্ত। যে কারণে সবকিছু মিলিয়ে এবারে ঈদের ইত্যাদির এই নাচটি হবে অসাধারণ। হানিফ সংকেতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নাচটির সংগীত পরিচালনা করেছেন তরুণ সংগীত পরিচালক আকাশ মাহমুদ। এবারের নাচের মিউজিকটিতে রয়েছে ক্লাসিক্যাল, ফোক ও আধুনিক কম্পোজিশনের সংমিশ্রণ। মিউজিকে যেমন নতুনত্ব রয়েছে, তেমনি নাচের কম্পোজিশনেও রয়েছে বৈচিত্র্য।

প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের বিশেষ ইত্যাদি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ঈদের পরদিন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত