২০২৫ সালে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ এর মোট বিক্রি বেড়েছে ৬% এবং কর পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ৩৪%। ধারাবাহিকভাবে ব্যবসার গতি ধরে রাখা ও গ্রাহক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে দারুন এই ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
সরকারি খাতে ব্যয় হ্রাসের ফলে নির্মাণ শিল্পে সামগ্রিক মন্দার মধ্যেও কোম্পানির প্রিমিয়াম পণ্য ও অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
২০২৫ সালের জন্য কোম্পানি মোট ৪০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে (অন্তবর্তীকালীন ১৮% নগদ লভ্যাংশ সহ)।
এ বিষয়ে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা ইকবাল চৌধুরী বলেন, ২০২৫ সালে সরকারি খাতে বিনিয়োগের মন্দা ও বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি হ্রাসের কারণে সামগ্রিক নির্মাণ শিল্প চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল। এরপরও লাফার্জহোলসিম দারুণ ফলাফল অর্জন করেছে। সিমেন্ট এবং অ্যাগ্রিগেটস উভয় খাতেই আমাদের বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে, যা আমাদের পণ্য ও সেবার প্রতি গ্রাহকের আস্থার প্রমাণ। চমৎকার এই ফলাফল অর্জনের জন্য আমি সকল কর্মী ও ব্যবসায়িক পার্টনারদের ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, উদ্ভাবন আমাদের অন্যতম প্রতিশ্রতি। ‘হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট’ এবং ‘সুপারক্রিট প্লাস’ এর মতো আমাদের উদ্ভাবনী পণ্যগুলো উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই পণ্যগুলো বাজারে আমাদের নেতৃত্ব তৈরি ও সাফল্য পেতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। এর পাশাপাশি, আমাদের টেকসই উন্নয়ন ও পণ্য বৈচিত্রকরণ উদ্যোগগুলো আমরা অব্যহত রেখেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ‘জিওসাইকেল’ এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে ৪৫ হাজার টনেরও বেশি পুনঃব্যবহার অযোগ্য বর্জ্য কো-প্রসেস করেছি, যার মাধ্যমে ১১% জীবাশ্ম জ্বালানী সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। বর্ধিত জ্বালানী ব্যয় এবং বাজারে অস্থিরতার কারণে মুনাফা অর্জন চাপের মধ্যে ছিল যা আমরা ব্যয় সংকোচন ও মূল্য নির্ধারনে কৌশলী হয়ে মোকাবেলা করেছি।
ইকবাল চৌধুরীর বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতেই উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর জন্য ‘হোলসিম কোস্টাল গার্ড’ এবং রেডিমিক্স সেক্টরের জন্য ‘পাওয়ারক্রিট’ বাজারজাত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের বিশেষায়িত পণ্যের পরিধি আরও বিস্তৃত করেছি। উপকূলীয় অঞ্চল এবং রেডি-মিক্স খাতের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক এই সমাধানগুলো উদ্ভাবনের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি এবং গ্রাহকদের বিশেষ চাহিদা পূরণেরই প্রতিফলন। আমরা আত্মবিশ্বাসী আমাদের এই কৌশল ও পণ্য সমাহার আগামী প্রান্তিকগুলোতে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০২৫ সালে লাফার্জহোলসিম এর নীট বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ৬% বেড়ে ২৯.৩ বিলিয়ন টাকা হয়েছে। একই সময়ের তুলনায় শেয়ার প্রতি আয় ৩৪% বেড়ে ৪.৪ টাকা হয়েছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৩.২৯ টাকা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সিমেন্টের প্রতিযোগিতামূলক বাজারমূল্যের চাপের মাঝেও ব্যয় সাশ্রয়ে আমাদের কৌশলগত প্রচেষ্টারই প্রতিফলন এই ফলাফল।
লভ্যাংশ:
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ বছরের প্রথম ৯ মাসের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) পারফরমেন্সের উপর ভিত্তি করে প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ১.৮ টাকা অন্তবর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন।
২০২৬ সালের মার্চ মাসের ১১ তারিখে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ২.২ টাকা চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছেন। এর ফলে ২০২৫ সালে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের মোট ৪০% নগদ লভ্যাংশ হিসেবে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে।
আউটলুক:
আগামী প্রান্তিকগুলোতে মুনাফা নিশ্চিত ও শক্তিশালী করতে মূল কৌশলগত স্তম্ভগুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে যার মধ্যে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, বিকল্প জ্বালানিসহ সাশ্রয়ী জ্বালানি মিশ্রণে বিনিয়োগ, পণ্য সমাহার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আমাদের মূল্য নির্ধারণী কৌশলকে আরও সুদৃঢ় করা অন্যতম। একই সাথে, আমরা টেকসই উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ অব্যহত রেখেছি। এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এবং বাজারে নিরবিচ্ছিন্ন নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
