রমজানে প্রসূতি মা শিশুকে কীভাবে দুধ পান করাবেন

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা সুরা বাকারায় ২২৩ আয়াতে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ দানের নির্দেশ দিয়েছেন। মায়ের দুধ আল্লাহর বড় নেয়ামত। শিশুর পুষ্টি, জীবনধারণ এবং বৃদ্ধির জন্য মায়ের দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের দুধ শিশু জন্মের ছয় মাসের শুধু প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করে না, বরং বিভিন্ন রোগ-প্রতিরোধক টিকা হিসেবে কাজ করে। শিশুর বয়স বাড়লে পরেও মায়ের দুধ বিভিন্ন রোগ থেকে তাকে মুক্ত রাখে। মায়ের দুধ খেলে শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মায় যার ফলে শিশুর ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কান পাকা, মেনিনজাইটিস, একজিমা, অ্যালার্জি, দাঁতের অসুখ ইত্যাদি কম হয়। এ ছাড়া রোগ হলেও প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি বলে তারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।

রমজান মাসে প্রসূতি মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি রোজা রাখার জন্য দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। প্রসূতি মায়েদের বেলায় রোজা রাখার জন্য চিকিৎসকের মতামত প্রয়োজন। প্রসূতি মায়েরা তাদের খাবার গ্রহণের বিষয়ে এমন খাবার পছন্দ করবেন, যাতে করে পুষ্টির ঘাটতি দেখা না দেয়। দৈনিক খাবার তালিকায় আমিষজাতীয় অথবা প্রোটিনজাতীয় খাবার বেশি থাকতে হবে। ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, ডাল থেকে আমিষজাতীয় খাদ্যের উপাদান পাওয়া যাবে। বুকের দুধে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের উপস্থিতির জন্য খেতে হবে সবুজ শাকসবজি, দই, পনির, বাদাম, কমলা, কলা, আঙুর, আপেল ইত্যাদি। ইফতারের আয়োজনে কলিজা, সিশাড়া, কাবাব, ডিম, লাচ্ছি রাখা যেতে পারে। খেজুর সহযোগে ইফতার করলে প্রয়োজনীয় লৌহের চাহিদা মেটে। ইফতারের শুরুতেই পর্যাপ্ত তরলজাতীয় খাবারের উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

প্রসূতি মায়ের বেলায় বুকের দুধ বাড়াতে তরল জাতীয় খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। এ জন্য পানি ছাড়াও সুপ, ঝোল, ডাল, শরবত, সাগু ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। রোজা রাখার জন্য রমজানের সাহরি, ইফতার, সন্ধ্যা রাত তিন বেলায় পর্যাপ্ত সুষম খাবারের সন্নিবেশ ঘটাতে হবে। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে নবজাতক শিশুর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিশুটি দৈনিক ছয়বারের বেশি প্রস্রাব করছে কিনা, শিশুটি দৈনিক চারবার আঠালো মল ত্যাগ করছে কিনা, শিশুটির ওজন বাড়ার গতি ঠিক থাকছে কিনা। শিশুটি দিনে রাতে ২৪ ঘণ্টায় ৮-১২ বার বুকের দুধ পান করছে কিনা। উপরোক্ত বিষয়গুলোর আলোকে শিশুটির প্রস্রাব-পায়খানা বৃদ্ধি বা স্বাভাবিক শিশুটির প্রস্রাব, পায়খানা বৃদ্ধি বা স্বাভাবিক থাকে তাহলে বলা যেতে পারে শিশুটি পর্যাপ্ত বুকের পাচ্ছে। পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাওয়া গেলে প্রসূতি মায়ের রোজা রাখতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে, পর্যাপ্ত বুকের দুধের অভাবে শিশু যদি দুর্বল, ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে সে ক্ষেত্রে প্রসূতি মায়ের রোজা ছেড়ে দিয়ে পরে তা আদায় করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রসূতি মা রোজা রাখতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্য যেমন শর্করা, চর্বি, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি আনুপাতিক হারে গ্রহণ করতে হবে। কারণ প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্য যেমন শর্করা, চর্বি, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি আনুপাতিক হারে গ্রহণের ফলেই মায়ের সুস্বাস্থ্য রক্ষা পায় এবং নবজাতকের বৃদ্ধিতে পায় পরিপূর্ণ গতি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত