ইরান যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলকে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন আগামী দিনগুলোতে সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের খবর বলছে, তেহরানে শাসন পরিবর্তন করতে চাইলে স্থল সেনা অভিযান চালাতে হবে নতুবা দেশজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভের সৃষ্টি হতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুটো বিকল্পই সম্ভব নয় বলে মনে করছে গণমাধ্যমটি।

এমন অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে ইসরায়েলকে এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রধান উদ্বেগ যুদ্ধের ফলে তেলের দাম ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব পড়ছে। অপরদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, তারা সামরিক অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত শুরুর আগে তার ফলাফল নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নই করেনি। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ তেল উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও সংঘাতের জেরে মাত্র দুই সপ্তাহের কম সময়ে গ্যাসোলিনের দাম গ্যালন প্রতি ৬০ সেন্ট বেড়েছে।

এই দামবৃদ্ধি ট্রাম্পের ‘সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ’ গড়ার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারের উদ্বেগ কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের দেওয়া আশ্বাস বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দিতে ব্যর্থ হয়।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের এই ঘাটতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো এখন ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত