ফুটবল মাঠের চেয়ে আকারে ছোট, বৈদ্যুতিক বাতি লাগিয়ে খেলা যায় রাতেও। স্বল্প সময়ের রোমাঞ্চকর ফুটসাল যেন ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি! রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে অনেক জায়গাতেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ফুটসাল খেলার জায়গা, যেখানে অর্থের বিনিময়ে খেলা যায় ছোট বার আর ছোট গোলপোস্টের ফুটসাল ম্যাচ। ফুটসালের হয় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও, সম্প্রতি বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা সাফ ফুটসাল জিতেছে ব্যাংককে। ফুটবলের এই সংস্করণের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের মাঠমুখী করতে চান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
খেলার মাঠের সংকট কাটাতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ফুটসাল খেলার সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যেন সব বয়সের মানুষ সহজেই খেলার সুযোগ পায়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে, সারা দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। সভায় প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল ঢাকা মহানগরের খেলার মাঠের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, মাঠের জায়গা খুঁজে বের করতে প্রয়োজনে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হবে। যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই, সেখানে অন্তত দুটি ওয়ার্ডের মাঝখানে একটি খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদি তাতেও জায়গা পাওয়া না যায়, তবে তিনটি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে একটি বড় খেলার মাঠের স্থান নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া বর্তমান প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় ফুটসাল খেলার প্রসারে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ডেডিকেটেড ফুটসাল মাঠ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে খেলার মাঠের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত বিভাগ এবং বিভিন্ন স্কুলের অধীনে থাকা খালি জায়গাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সেগুলো শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি এলাকায় শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। মাঠগুলোকে শুধু খেলার জন্য নয়, বরং সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। মাঠের চারপাশে সুন্দর ওয়াকওয়ে বা হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে যেন বয়োজ্যেষ্ঠরা নিরাপদ পরিবেশে সকালে ও বিকেলে হাঁটাচলা করতে পারেন। ‘সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এবং উপজেলা সদরে একটি করে খেলার মাঠ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন মাঠটি যেন ইউনিয়নের কোনো প্রান্তে না হয়ে জনপদ ও যাতায়াতের সুবিধার কথা চিন্তা করে মাঝামাঝি স্থানে হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মাঠ নির্বাচনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত তদবিরকে প্রশ্রয় না দিয়ে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।