ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা’ (এলএসি) নিয়ে প্রথমবারের মতো কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক করেছে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী। প্রদেশটির ওয়াচা-দামাই সীমান্ত গতকাল রবিবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এলাকায় দুই দেশের মধ্যে চলমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করাই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন থ্রি কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়া। ভারতের থ্রি কোর ও তেজপুরভিত্তিক ফোর কোর অরুণাচল প্রদেশে চীনের সঙ্গে থাকা এলএসি অংশের দায়িত্বে রয়েছে।
ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর মোট পাঁচটি বর্ডার পার্সোনেল মিটিং (বিপিএম) পয়েন্ট রয়েছে। এর মধ্যে দুটি অরুণাচল প্রদেশে অবস্থিত; ওয়াচা সেই দুটি বৈঠকস্থলের অন্যতম। এএনআই জানিয়েছে, বর্তমানে যে এলাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে সেখানে চীনা সেনাদের অবস্থান নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভারত ও চীন দুই দেশই নিজেদের ভূখণ্ডে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ধারণা পোষণ করে। এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অতীতে একাধিকবার সীমান্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে।
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীন সেনাদের মধ্যে সংঘাতের পর থেকে এলএসি সংক্রান্ত বৈঠকগুলো এতদিন পর্যন্ত মূলত লাদাখের চুশুল-মুলদো সীমান্ত বৈঠকস্থলে অনুষ্ঠিত হতো। ওই সংঘর্ষে ভারত ও চীন- উভয়পক্ষেরই সেনা হতাহত হয়েছিল। এই বৈঠকের আগে থ্রি কোরের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ। সেখানে তাকে বাহিনীর প্রস্তুতি এবং যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সম্প্রতি চীনে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সফরের পর দুই দেশ এলএসি বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর অরুণাচল সীমান্তে এ বৈঠকের ঘোষণা আসে। পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার কাঠামোর অধীনে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠক করেন দোভাল। সেখানে সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের।
গালওয়ান সংঘর্ষের সময় চীন একতরফাভাবে এলএসির অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছে এমন অভিযোগের পর ভারতও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেয়। পূর্ব লাদাখে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন স্ট্রাইক কোরের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে ভারত। তবে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের মধ্যে একাধিক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যকার বরফ কিছুটা গলেছে।