বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেতারের একজন ইংরেজি সংবাদ উপস্থাপক মো. সহিদ হাসান। অধ্যাপনার পাশাপাশি সংবাদ উপস্থাপনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার গল্পটা জানালেন প্রদায়ক অরণ্য সৌরভের কাছে
বেতারে সংবাদ উপস্থাপনা করছি ১৯৯৪ সাল থেকে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে ২০০৬ সাল থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেছি। সংবাদ পাঠের পাশাপাশি কলেজে অধ্যাপনা করি।
সংবাদ উপস্থাপনা একটা আর্ট, শৈশব থেকেই আমার খুব ভালো লাগত । সংবাদ পড়ার একটা স্বপ্ন আমার শৈশব থেকেই ছিল। সংবাদ উপস্থাপনায় আমার শিক্ষক বলতে গেলে আমার আব্বা। তিনি বেশ ভালো-শুদ্ধ উচ্চারণ ও সাবলীল ইংরেজি বলতে পারতেন। প্রায় প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা পড়ে আমাকে শেখাতেন কীভাবে পড়তে হয়।
শুরুটা হয়েছিল নিউজ কমেন্ট্রি দিয়ে। সময়টা ১৯৯৪ সালের ২০ ডিসেম্বর। সেদিন আমার আব্বাও আমার সঙ্গে বেতারে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ২০০৬ সালের ৫ মে প্রথম লেটনাইট নিউজ পড়েছিলাম। সেই সময় বিটিভির লেটনাইট নিউজ অন্যান্য চ্যানেলেও সম্প্রচার হতো। তাই বেশ নার্ভাস ছিলাম এই ভেবে যে লাখ লাখ মানুষ আমার নিউজ শুনছেন। আমার ঠিক আগে বাংলা সংবাদ উপস্থাপনা করেছিলেন প্রয়াত সাজাহান খন্দকার। উনি আমার পুরো সংবাদটি দেখেছেন এবং প্রথম দিনের পারফরমেন্স দেখে উপস্থিত সবাই প্রশংসা করেন এরপর আমার উৎসাহ বেড়ে যায়। তারপর থেকেই দীর্ঘ পথচলা আমার।
ওই সময় ইংরেজি নিউজ প্রেজেন্টশনে মাহমুদুর রহমান, শামীম আহমেদ, সাদিয়া চৌধুরী, ফেরদৌসী হক এবং মুনমুন আপা খুব পরিচিত মুখ। আমি তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।
তাদের সঙ্গে নিউজ পড়ার অভিজ্ঞতাও অসাধারণ। বিশেষ করে মাহমুদুর রহমান, নাফিজ ইমতিয়াজ, ইসমত জেরিন খান, মহিউদ্দিন বাবর, ইয়াসমীন মাহমুদ এবং মুনমুন রহমান। অনেক দিনই তাদের সঙ্গে আমি বিটিভির প্রাইম বুলেটিনও পড়েছি। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি চ্যানেল মিলিয়ে অনেক প্রতিভাবান সংবাদ উপস্থাপক এসেছেন। সামনেও হয়তো অনেকে আসবেন। আমাদের সময় এটাকে প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া যেত না। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই সংবাদ উপস্থাপনাকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। যা এক অর্থে ভালো সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশে অনেক মিডিয়া হাউজ এখন। কাজের সুযোগও অনেক। অনেক ছেলেমেয়ে পড়াশুনার পাশাপশি সংবাদ উপস্থাপনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশুনা করেও অনেকে সংবাদ পাঠকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে যারা নতুন তাদের উদ্দেশ্য বলব নিউজ স্টোরিটা ভালোভাবে বুঝতে হবে। পরে সে অনুযায়ী দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করা। পড়ার সময় উচ্চারণ, ভাইভ টোন এবং ছন্দ ঠিক রাখার ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। এ ছাড়া উপস্থাপনা প্রাণবন্ত হতে হবে। অন এয়ার -এ যে কোনো পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে সাবলীলভাবে ম্যানেজ করতে পারাই হচ্ছে একজন ভালো উপস্থাপকের গুণ।
