ম্যানচেস্টার সিটির মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়াম আবারও ভিনিসিউস জুনিয়রের জাদুতে স্তব্ধ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ম্যাচের জয় ছাড়িয়ে এখন আলোচনায় ভিনিসিউসের গোল উদযাপন। সেই বিশেষ উদযাপনে তিনি সিটির দর্শকদের দিকে তাকিয়ে ‘কান্না’র ভঙ্গি করেছিলেন। কিন্তু কেন?
প্রথম লেগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ফিরতি লেগেও সিটিকে কোনো সুযোগ দেয়নি। ম্যাচের ২২ মিনিটে বের্নার্দো সিলভা গোললাইন থেকে হাত দিয়ে বল ঠেকানোয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিনিসিউস। গোল করার পর প্রথমে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে চুপ থাকার ইঙ্গিত দেন এবং পরে দুই হাত দিয়ে চোখের জল মোছার ভঙ্গি করেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সিটির বিপক্ষে এটি ভিনিসিয়ুসের অষ্টম গোল, যা লিওনেল মেসির (৯ গোল) পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান এই তারকা পরিষ্কার করেছেন, তার উদযাপন ছিল ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের এক দাঁতভাঙ্গা জবাব। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে রদ্রিকে হারিয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন ভিনিসিউস। ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা তখন থেকে ব্যানার ও স্লোগানে ভিনিসিউসকে নিয়ে উপহাস করে আসছিলেন।
ভিনিসিয়ুসের পাশে দাঁড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যালন ডি’অর প্রদানের অনুষ্ঠান বয়কট করেছিল। এবার সেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে ভিনিসিউস বলেন, ‘গতবার যখন আমি এখানে এসেছিলাম, ম্যানচেস্টার সিটির ভক্তরা আমাকে নিয়ে মজা করছিল। রদ্রি জিতেছে বলে তারা ব্যানার দেখিয়ে আমাকে অপমান করেছিল। আমি তাদের অসম্মান করতে চাইনি, বরং নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি।’
অন্যদিকে একের পর এক ব্যর্থতায় ম্যানচেস্টার সিটি বস পেপ গার্দিওলা রীতিমতো হতাশ। ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর থেকে সিটি তাদের শেষ ১৭টি ইউরোপীয় ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই হেরেছে। হারলেও নিজের দলের ওপর আস্থা রেখে গার্দিওলা ম্যাচ শেষে বলেন, ‘১০ জনের দল নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের বিপক্ষে ৪-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। তবে আমার খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা।’
বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে ‘ট্রাম্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা’র সিদ্ধান্ত পেছাল
ফিনালিসিমা বাতিল হওয়ায় গুয়াতেমালার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা