গণমানুষের অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ এবং ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠায় জামায়াত অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়া খেলাঘর মাঠ সংলগ্ন ‘উদ্যম প্রচেষ্টা ক্রিকেট প্রাঙ্গণে’ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তেজগাঁও দক্ষিণ থানার আমির ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নো’মান আহমেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও দক্ষিণ থানার বায়তুলমাল সম্পাদক আজিজুল হক, অফিস সম্পাদক ডা. তৌফিক, পূর্ব তেজতুরী বাজার মহল্লার সভাপতি হাজী তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার, তেজকুনিপাড়া মসজিদ কমিটির সদস্য সচিব হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় মানুষের অধিকার প্রতিনিয়তই পদদলিত হচ্ছে। সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সর্বত্রই মানুষের আহাজারি ও আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী একটি গণমুখী ও আদর্শবাদী সংগঠন হিসেবে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। কিন্তু রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ব্যক্তি বা সাংগঠনিক পর্যায়ে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তবুও আমরা সমাজের সচেতন নাগরিক ও ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী সংগঠন হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করি। জনগণের জন্য জামায়াতের এমন কল্যাণকামী কর্মসূচি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। তিনি আর্তমানবতার কল্যাণে সরকার, সকল রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর জাতীয় জীবনে নতুন আশাবাদের সৃষ্টি হলেও রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে সেই অর্জন নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তেমন সাফল্য দেখাতে পারছে না। সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক খাত ক্রমেই ভঙ্গুর হতে শুরু করেছে। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এমতাবস্থায় জামায়াত নীরব দর্শক না থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে মানবিক দায়িত্ব ও একটি আদর্শিক সংগ্রামের অংশ মনে করছে। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই আজ আমরা সামান্য কিছু হাদিয়া নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এতে কেউ ন্যূনতম উপকৃত হলে আমাদের শ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করব।
পরিশেষে তিনি ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
