বাসি পঁচা খাবার বিক্রি, খাবারে অনুমোদনহীন পণ্য ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরির দায়ে কারণে যশোরে ‘ক্যাফে নুর’ হোটেল মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (২৫মার্চ) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ অভিযান পরিচালনা করে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান জানান, সম্প্রতি যশোর শহরের আর এন রোড এলাকার ক্যাফে নুর হোটেলের বিরিয়ানি খেয়ে বেশ কয়েকজন ভোক্তা অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। বিষয়টি আমলে নিয়ে বুধবার ক্যাফে নুরে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে দেখা যায়, হোটেলের ফ্রিজে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাসি খাবার ও বাসি মাংস নোংরা পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়েছে। রান্নার জায়গার ঠিক পাশেই প্রচুর পরিমাণে তেলাপোকার বিচরণ দেখা যায়। এছাড়া রান্নায় ব্যবহারের জন্য রাখা অনুমোদনহীন ক্ষতিকর ১৪০ পিস ‘মোগলাই সেন্ট’, ‘কেওড়া জল’ ও ‘গোলাপ জল’ জব্দ করা হয়। যেগুলোর বোতলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ নাম-ঠিকানা ছিল না, উপরন্তু বিএসটিআইয়ের ভুয়া সিল ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি হোটেলের টয়লেটে হাত ধোয়ার জন্য কোনো সাবান ছিল না। কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত ফিটনেস সার্টিফিকেটও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
এ প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে হোটেল মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও শহরের চুড়িপট্টি এলাকার শান্তি স্টোরে অভিযান চালিয়ে মেয়াদবিহীন ও ননফুড গ্রেড রং মিশ্রিত শিশুখাদ্য চিপস বিক্রির অপরাধে তিন হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযান শেষে কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়। জনস্বার্থে এই ধরনের মনিটরিং কার্যক্রম নিয়মিত চলবে বলে জানিয়েছে তিনি। অভিযানকালে ক্যাব প্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।