ঠাকুরগাঁওয়ে সাবেক নারী ক্রিকেটারের বসতভিটা দখলের অভিযোগ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দনগর উঁরাও পাড়া এলাকায় এক সাবেক জাতীয় নারী ক্রিকেটারের বসতভিটা ও ব্যক্তিগত কালী মন্দির জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।

আজ সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় একা মল্লিক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে একা মল্লিক জানান, ২০১৮ সালে তার ভাই অনিক মল্লিক গোবিন্দনগর মৌজায় ২.৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে বসতবাড়ি ও একটি ব্যক্তিগত কালী মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরে তার বাবা শংকর মল্লিক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিবারটি বর্তমানে শহরের আশ্রমপাড়া এলাকায় বসবাস করলেও নিয়মিত বাড়িতে যাতায়াত এবং পূজা-অর্চনা চালিয়ে আসছিলেন।

একা মল্লিক অভিযোগ করেন, গত ২৫ নভেম্বর তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে প্রতিবেশী দিপালী খালকো দিপা ও গোপাল খালকোসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা বাড়িতে থাকা শংকর মল্লিক ও প্রীতি মল্লিককে মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সাবেক এই ক্রিকেটার আরও জানান, ঘটনার পরদিন হাসপাতাল থেকে ফিরে তারা দেখেন যে প্রতিপক্ষরা মন্দিরের তালা ভেঙে আসবাবপত্র লুট করেছে এবং নিজেদের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও বিবাদীরা এলাকায় অবস্থান করছে এবং উল্টো তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেওয়ার পর ২৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের এসএ শাখা থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে জমির মালিকানা ও নথিপত্র একা মল্লিকদের পক্ষেই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবুও প্রভাবশালী মহলের মদদে বিবাদীরা জমিটি দখল করে রেখেছে বলে দাবি পরিবারের।

একা মল্লিক বলেন, আমি দেশের হয়ে মাঠে লড়েছি, আজ আমাকে নিজের ঘর ও মন্দির রক্ষার জন্য লড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, দ্রুত এই জবরদখলকারীদের হাত থেকে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ও উপাসনালয়টি মুক্ত করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত