চবিতে সক্রিয় হচ্ছে জুলাইবিরোধী শিক্ষকরা, পুনর্বাসনের চেষ্টা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

ছাত্র জনতার ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লবের বিরোধী ও তৎকালীন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ শিক্ষকদেরকে পুর্নবাসন করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন প্রশাসন। ২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলে আওয়ামীপন্থী এসব শিক্ষকরা পর্দার আড়ালে চলে যান। তবে জাতীয় নির্বাচনের পর চবিতে নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জুলাই বিরোধী শিক্ষকদের পুর্নবাসন করা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এ সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সেই সময় জুলাই বিপ্লবের বিরোধিতা, স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে আকন্ঠ সমর্থন, আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষার্থীদের ওপর দমন নিপীড়ন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে উসকে দেওয়া, আবাসিক হল থেকে জোরপূর্বক নারী শিক্ষার্থীদেরকে বের করে দেওয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

এতোসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এ সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো নতুন প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষকদেরকে বিভিন্নভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে মতামত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

১৭ মার্চ চবির নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন জীন প্রযুক্তি ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। এর পরপরই জুলাই বিরোধী শিক্ষকরা পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন তৎপরতা শুরু করতে দেখা গেছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পরে রবিবার (২৯ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কার্যদিবসে চবি উপাচার্যকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্ষদের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন পর্ষদের নেতারা।

এই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা। এস অনুষ্ঠানের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরাই আয়োজন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে মৌন মিছিলে অংশ নিয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে আকন্ঠ সমর্থন জানায় এই  শিক্ষক সমিতি। বর্তমানে মেয়াদ উত্তীর্ণ এই শিক্ষক সমিতির বর্তমানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর এ বি এম আবু নোমান, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর শাহনেওয়াজ মাহমুদ সোহেল, যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, সদস্য প্রফেসর মনজুরুল আলম, প্রফেসর ড. মো. রাশেদ-উন-নবী, প্রফেসর এস এম মনিরুল ইসলাম ও ড. এস এম সাদাত আল সাজীব।

শিক্ষক সমিতির বর্তমান নেতাদের নিয়ে যথেষ্ট মনোক্ষুণ্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের।

জ্যৈষ্ঠ শিক্ষকদের অভিমত, সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বের এই প্লাটফর্মটি জুলাই বিরোধী আওয়ামী দোসরদের আতুড়ঘর হয়ে আছে। তাছাড়া বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও কোনো এক অজানা কারণে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন দেওয়া হচ্ছে না।

মতবিনিময় সভায় হাটহাজারী শিক্ষক ফোরাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক সমিতির শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে হাটহাজারী শিক্ষক ফোরাম চবির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলী আরশাদ চৌধুরী, প্রফেসর ড. এইচ এস ফারুক আলম, প্রফেসর শাহনেওয়াজ মাহমুদ সোহেল, সহযোগী অধ্যাপক ড. শিপক কৃষ্ণ দেব নাথ, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহিদুল আলম (শাহীন), সহযোগী অধ্যাপক নিয়াজ মোরশেদ রিপন রয়েছে।

চবি ক্যাম্পাসে এ সকল শিক্ষক আওয়ামীপন্থী জুলাই বিরোধী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

এ বিষয় নিয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রকিবা নবীকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

জাতীয় নির্বাচন শেষে চবিতে নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জুলাই বিরোধী শিক্ষকদের পুর্নবাসন করা শুরু হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।

এ বিষয়ে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, এগুলো পুরনো ঘটনা, এখন এসবকে সামনে আনা হচ্ছে। আমি এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলাম এবং অনেক প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলাম। তবে এতো পুরনো ঘটনার জন্য তো কোনো শিক্ষার্থী এসে অভিযোগ করেনি। ফেসবুকে অনেক লেখালেখি হয়। এগুলোকে আমি গায়ে মাখি না। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, সাদা দলের পক্ষ থেকে আমরা যখন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যাই তখন আমরা বলেছি যে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্খাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচালনা করতে হবে। উপাচার্য আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে যারা ফ্যাসিস্ট তাদেরকে কোনো সুযোগসুবিধা দেওয়া হবে

তিনি বলেন, চবি শিক্ষক সমিতি বর্তমানে সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব করছে না। জুলাইয়ে আগে একতরফাভাবে নির্বাচন হয়ে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। এখন অনেকেই গর্ত থেকে বের হয়ে কাজ শুরু করেছে। কোনো কিছু করার তাদের বৈধতা নেই। তারা হাসিনার পক্ষ নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। বিগত প্রশাসনের নমনীয়তায় তাদেরকে হয়তো কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। শিক্ষক সমিতি মিলনমেলা নামে একটা প্রোগ্রাম করতে চাচ্ছে। আমরা উপাচার্যকে জানিয়েছি যেই শিক্ষক সমিতির কোনো মাইন্ডেড নেই সেই শিক্ষক সমিতি এমন কোনো প্রোগ্রাম আয়োজন করতে পারবেনা।

অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, আইন বিভাগের সভাপতিকে সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে। উনি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন বলে আমি মনে করি। কারণ একজন ফাঁসি আসামির পক্ষে তিনি বৈধতা তৈরি করেছেন। বিভাগের সভাপতি হিসেবে তার কাছে থেকে এমন কর্মকাণ্ড কখনোই কাম্য নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত