জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের আমিনুল ইসলামের (২৭) বিরুদ্ধ যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুজনা আক্তারকে (২৩) নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালত স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ ) দুপুরে জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন। এ সময় ১ লাখ টাকা জরিমানারও আদেশ দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আমিনুল ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলুয়ারচর গ্রামের মো.আমজলের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলুয়ারচর গ্রামের আমজলের ছেলের সাথে বকশিগঞ্জ উপজেলার টালিয়াপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার মেয়ে সুজনা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তাদের সুখের কথা ভেবে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন সুজনার পরিবার। এরপরও মেয়ের জামাই আমিনুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন করেন। এর একপর্যায়ে ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল রবিবার দিনগত রাতে স্বামী আমিনুল ইসলাম যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুজানা আক্তারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এ সময় সুজনাকে তল পেটে লাথি দিলে তিনি গুরুতর আহত হয়। সেদিন তাকে আর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে পরের দিন বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় ডাক্তার সুজনার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে শেরপুর নেওয়ার পথে হাসপাতাল গেইটে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা সুরুজ মিয়া দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় আমিনুল ইসলাম, তার বাবা মো.আমজল ও মা মোছা.খইফুল বেগমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত করে বাবা আমজল ও মা খইফুল বেগমকে অভিযোগ থেকে খারিজ করেন।
এ মামলায় ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির উপস্থিতিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১১ (ক) ধারায় দোষী সাব্যস্থ হওয়ায় আদালতের বিচারক আবদুর রহিম আসামি আমিনুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুন্যাল-১ (পিপি) মো. ফজলুল হক বলেন, আসামি আমিনুল তার স্ত্রী সুজনা আক্তারের কাছে যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে আসামি তাকে তল পেটে লাথি মারে। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে সুজনার বাবা সুরুজ মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রমাণ করতে সক্ষম হই এবং আসামিও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে আরও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।
