স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৯৪ শিশুর মৃত্যু

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৫ এএম

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ দিনে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের কারণে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে আরও ৯৪ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৭৭১ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩১৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৪৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৮ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া খুলনা ও সিলেটে ৫ জন করে, চট্টগ্রামে ৪ জন এবং বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

চিকিৎসকদের মতে, হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর প্রাথমিক উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্দি, কাশি, তীব্র জ্বর (১০৩-১০৫° ফারেনহাইট), চোখ লাল হওয়া এবং গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ। সংক্রমণের কয়েকদিন পর মুখ ও ঘাড় থেকে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সঠিক যত্নে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে এবং একবার আক্রান্ত হলে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুর মধ্যে কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই সাথে আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। হাম প্রতিরোধে নির্ধারিত সময়ে শিশুকে টিকা দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত