ফেনীতে এক ছাত্রদল মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাটি ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় একটি ইটভাটায় মাটি পরিবহনকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি করে যুবদল নেতা নাসির উদ্দিন আরফান, মীর মোশাররফ হোসেন রিয়াদ, মানিক, অপু এবং তাদের অনুসারীরা। এতে বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। দিনভর দফায় দফায় হামলার পর রাতে বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে একটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং পাশের ঘরের বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবদল নেতাদের সকল ধরনের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বলে জানান ফেনী জেলা যুবদল আহ্বায়ক নাছির উদ্দীন খোন্দকার। পুড়ে যাওয়া বসতঘর দুটি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের। তিনি ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের সভাপতি ও শর্শদি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শর্শদি ইউনিয়নের ফতেহপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাটির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে একটি ইটভাটার জন্য মাটি পরিবহনের সময় কয়েকটি গাড়ি আটকে দেয় একটি পক্ষ। ওই পক্ষটিতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মীর মোশাররফ হোসেন, শর্শদি ইউনিয়ন যুবদলের সমন্বয় কমিটির সদস্য জাফর আহমদ, যুবদল কর্মী দেলোয়ার হোসেন, আলাউদ্দিন ছিলেন। গাড়ি আটকে দেওয়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে সাইফুদ্দিন ও তার সমর্থকদের বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার পর থেকে তারা আমাকে বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকেন। গত শুক্রবার জুমার পর শর্শদি ইউনিয়ন যুবদলের সমন্বয় কমিটির সদস্য জাফর আহমদ ও তার লোকজন আমার মেজ ভাইকে মারধর করে হাত ভেঙে দেয়। একপর্যায়ে আমার দুজন কর্মীকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেবীপুর এলাকার একটি ক্লাবে বেঁধে রাখে। এরপর রাতে জাফরের নেতৃত্বে দেলোয়ার, জামাল, আরফান, আমার বাড়িতে হামলা করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বসতঘরে হামলার সময় আমার মা ও বোনকে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। পরে মা ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় গেলে হামলাকারীরা আমাদের ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদলের সমন্বয় কমিটির সদস্য জাফর আহমদ, যুবদল কর্মী দেলোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসমবায়বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে অনেকগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, সেখানে খোঁজ করে দেখেন আমার উপস্থিতি আছে কি না। আমি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’
এদিকে আগুনের ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাদাত হোসেন বলেন, আগুনে বসতঘর ও রান্নাঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
জানতে চাইলে শর্শদি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারেক ইকবাল বলেন, আমরা কোনো সন্ত্রাসী রাজনীতি করি না, করবও না, কাউকে করতেও দেব না। সাইফুদ্দিনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। যাঁরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাস বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সংঘটিত ঘটনা বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
