বগুড়ায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব) বলেছেন, অতীতে নির্বাচন নষ্ট করার অন্যতম কারণ দেখেছিলাম যে আমরা যে টিম ভোট কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলাম যথাযথভাবে তাদের প্রশাসনিক সহায়তা দেয় নাই, এতে তারা স্থানীয় আতিথিয়তা গ্রহণ করেছে। পরদিন এতে ঐ হোস্ট কেন্দ্রে তার দলবল নিয়ে প্রভাব বিস্তার করে তখন আর নৈতিক দৃঢ়তা থাকে না তাদের বাধা দেওয়ার।
'তবে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সেটা হতে দেয় নাই। প্রত্যেক বাহিনিকে নূন্যতম বরাদ্দ নির্বাচনের আগেই দিয়ে দিয়েছি। তাই নির্বাচনে কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
জাতীয় সংসদের ৪১ বগুড়া-৬ শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে আজ রবিবার সকাল ১০টায় বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, দায়িত্ব পালনে কেউ অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে, সংঘাত ও রক্তপাত ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। উপনির্বাচন বলে এটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কমিশন এ নির্বাচনকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। দায়িত্ব পালনে কেউ অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনে কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অসতর্কতার কারণে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
অবৈধ ও হারানো অস্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এখনও চার শতাধিক পিস্তল নিখোঁজ রয়েছে। কোনও অসৎ উদ্দেশ্য যেন বাস্তবায়িত না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি উপনির্বাচনে কেন্দ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহজাহান, নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম, আনসার বাহিনীর রাজশাহী রেঞ্জের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, ৪০ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট তানভীর আহমেদ তমাল, রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা।
