শিবালয়ে বালু মহালের ম্যানেজার হত্যা, ৬ জনকে আসামি করে মামলা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মিরাজ হোসেন (৪০) হত্যা ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকদিয়া এলাকায় বালু মহাল কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে গুলি ও কুপিয়ে মিরাজ হোসেনকে হত্যা করা হয়। তিনি পাবনা সদর উপজেলার চর সাহাদিয়ার গ্রামের বাসিন্দা এবং তেওতা বালু মহালের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ঘটনার দুইদিন পর রবিবার রাতে বালু মহালের ঠিকাদার কাউছার আলম খান বাদী হয়ে শিবালয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাজু, কাউয়ুম ও আলমগীরসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদী কাউছার আলম খান জানান, প্রায় পাঁচ মাস ধরে একটি চক্র বালু মহালের বালু উত্তোলন ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ট্রলারযোগে এসে আতঙ্ক সৃষ্টি করায় একাধিকবার বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সর্বশেষ ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে আবারও হুমকি দেওয়া হয়। এরপরও তারা কাজ চালিয়ে যান।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে ম্যানেজার মিরাজসহ ৬-৭ জন স্টাফ ড্রেজারে বসে হিসাব-নিকাশ করছিলেন। এ সময় স্পিডবোটে করে এসে হামলাকারীরা গুলি চালায় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মিরাজকে হত্যা করে। তিনি দাবি করেন, পূর্বে যারা তাদের কাজে বাধা দিত তাদের মধ্যেই অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

ঘটনার সময় উপস্থিত এক স্টাফ পরিচয় না প্রকাশে শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে তারা ৭-৮ জন ড্রেজারে বসে হিসাব করছিলেন। হঠাৎ ৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এসে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তাদের মধ্যে ৪ জনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ জনের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পরে মিরাজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা পরে বোট থেকে নেমে চর হয়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় মিরাজকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ঘটনার পর আহত হিসেবে যাকে উল্লেখ করা হয়েছিল সেই জাহাঙ্গীর গুলিবিদ্ধ হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি অন্য কোনোভাবে আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, রবিবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এতে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার আগে করা হুমকির জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, বালু মহাল নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত