যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র পাওয়ার বিষয়ে যা বললো কুর্দিরা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমরা বিক্ষোভকারীদের কাছে প্রচুর অস্ত্র পাঠিয়েছি।...আমার ধারণা, কুর্দিরাই সেই অস্ত্রগুলো গ্রহণ করেছেন। তবে বেশ কয়েকজন কুর্দি নেতা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র সহায়তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের পর ইরানের কুর্দি নেতারা বিষয়টি নিয়ে তাদের  অবস্থান জানান।

সশস্ত্র গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টির (পিজেএকে) জ্যেষ্ঠ নেতা সিয়ামান্দ মঈনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি নাকচ করেছেন। মিডল ইস্ট আইকে তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি, পিজেএকে এমন কিছু পায়নি। অন্যদের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির (পিএকে) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সমন্বয়ক হানা ইয়াজদানপানা বলেন, আমাদের কাছে সেই পুরোনো কালাশনিকভ রাইফেলগুলোই আছে। এগুলো দিয়ে আমরা পাঁচ বছর আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। তা ছাড়া আইএস পরাজিত হওয়ার পর তাদের ফেলে যাওয়া কিছু অস্ত্র আমাদের কাছে আছে। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি অস্ত্রও পাইনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এরপর মার্চের শুরুর দিকে ট্রাম্প বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে তিনি কুর্দি বাহিনীকে সমর্থন দেবেন। সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে। তবে ট্রাম্প পরে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কুর্দিরা এই লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ুক, তা তিনি চান না। ট্রাম্পের ভাষায়,‘তাঁরা (যুদ্ধে) যেতে আগ্রহী। কিন্তু আমি তাদের বলেছি, আমি তা চাই না।

ইরাকি কুর্দি কমান্ডার সিরওয়ান বারজানি এর আগে মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের খবর নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইরাকি কুর্দিরা ইরানি কুর্দিদের সীমান্ত পার হয়ে যুদ্ধ করতে সাহায্য করছে বলে যে খবর রটেছে, তা সঠিক নয়।

প্রসঙ্গত, কুর্দিরা পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ জাতিগোষ্ঠী, যাদের এখনো নিজস্ব কোনো রাষ্ট্র নেই। বিশ্বজুড়ে তাদের সংখ্যা প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি। তাদের বেশির ভাগই বাস করে আর্মেনিয়া, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও তুরস্কের সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলে। কুর্দিরা নিজেদের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের একটি জাতি ‘মিডস’-এর সঙ্গে যুক্ত করে দেখে। এক শতাব্দী আগে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সীমানা নির্ধারণের সময় কুর্দিরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। এর পর থেকে অস্থির এই অঞ্চলের রক্তাক্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে তারা বারবার আটকা পড়েছে।

নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রায়ই তাদের ভরসা করতে হয়েছে নিজেদের গড়ে তোলা মিলিশিয়া বাহিনী পেশমার্গার ওপর। ইতিহাস থেকে কুর্দিরা একটি কথাই শিখেছে-তাদের ‘বন্ধু বলতে পাহাড় ছাড়া আর কেউ নেই’। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলেও কুর্দিদের একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতি রয়েছে। তাদের ভাষা পারসিয়ান ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর বহু উপভাষা আছে। তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত, খাবার ও আলাদা পরিচয় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত