পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের ‘বোমাবর্ষণ ও হামলা’ অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প। যদিও শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। ইরানও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি অনুমোদন করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পুরো প্রক্রিয়াটি আলোর মুখ দেখেছে। মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায় ইরান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সম্মতিতে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।পরিষদ এই চুক্তিকে 'ইরানের বিজয়' হিসেবে অভিহিত করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, স্থায়ী চুক্তির জন্য আলোচনা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আসা ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ‘ভালো কোনো বিকল্প’ ছিল না বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ইরানবিষয়ক নীতি বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পার্সি। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ত্রিতা পার্সি বলেন, পরিস্থিতি অনেকটা এমন ছিল যে ট্রাম্প এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন।ত্রিতা পার্সির মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু হলে তা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে ‘ধ্বংস’ করে দিত। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প বড় বড় হুমকির কথা বললেও অঞ্চলের সবাই জানতেন যে-যদি ইরানের জ্বালানি সম্পদ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়, তবে ইরানও জিসিসি (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ) দেশগুলোর ওপর পাল্টা আঘাত হানবে। এতে বিশ্ব এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়ত, যা বর্তমান পরিস্থিতির চেয়েও কয়েক গুণ খারাপ হতো।’
‘তাঁকে (ট্রাম্প) এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হতো। তিনি আজ দিনের শুরুর দিকে হুমকিগুলো দিয়েছিলেন যাতে এমন একটি আবহ তৈরি করা যায় যে, আজ সন্ধ্যায় তিনি যে চুক্তিতে পৌঁছেছেন তা তার নিজের শর্তেই হয়েছে।’ পার্সি উল্লেখ করেন।পার্সি বলেন, ‘কিন্তু আপনি যখন বিষয়টির গভীরে তাকাবেন, তখন দেখা যাবে যে আসলে তেমনটি হয়নি। এমনকি তাঁর (ট্রাম্প) নিজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই আলোচনা হবে ইরানিদের দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে-যা (ট্রাম্পের হুমকির চেয়ে) অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত একটি পরিকল্পনা।’
